30.1 C
Agartala
Tuesday, October 27, 2026

Buy now

spot_img

স্নাতক শিক্ষক পদে ১,৪৫২ জনকে নিয়োগের অফার, গুণগত শিক্ষায় জোর মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজ্যে স্নাতক শিক্ষক পদে ১,৪৫২ জন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগের অফার প্রদান করা হয়েছে। বুধবার হাঁপানিয়ার আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অফার প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী (ডা.) মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকারাই নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

নিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, STGT-এর মাধ্যমে নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ৬৮৬ জন এবং TET-2-এর মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য ৭৬৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নিয়োগের অফার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরে ২৩ হাজার ৯৮৬ জনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার যুবক-যুবতীর।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে গুণগত শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের অনুপাত সঠিক রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে ১,৩৮৯টি বিদ্যালয়কে ICT প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ১,২১০টি বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাস এবং ৩৬৭টি বিদ্যালয়ে টিঙ্কারিং ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ২,১৩৮টি বিদ্যালয়ে TLM পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।

শিক্ষার প্রসারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ছাত্রীকে সাইকেল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত শিক্ষায় উৎসাহিত করতে আইপ্যাড প্রদান, মেধাবী ও আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘সিএম সাথ’ প্রকল্পে বৃত্তি এবং ‘সুপার-৩০’-এর মতো কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। অর্থের অভাবে যাতে কোনও মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে সরকার উদ্যোগী।

TET-1 উত্তীর্ণদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তাই এই বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর লক্ষ্য অনুসারে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শিশুকেন্দ্রিক, দক্ষতাভিত্তিক ও উৎসাহব্যঞ্জক করে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন SCERT-এর অধিকর্তা এল ডার্লং। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মধ্য ও বুনিয়াদি শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা ড. সমিত রায় চৌধুরী।

নবনিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা শুধু একটি চাকরি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের সঠিক দিশা দেখিয়ে দক্ষ ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles