আগরতলা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : আসন্ন দুর্গাপূজা ও শারদোৎসব সুষ্ঠু, আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পশ্চিম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার প্রজ্ঞাভবনের ১ নম্বর হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল, বিদ্যুৎ পরিষেবা ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জেলার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার, পুলিশ সুপার নমিত পাঠক, ট্রাফিক সুপার কান্তা জাঙ্গির, সদর মহকুমা শাসক মানিকলাল দাস-সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক এবং জেলার বিভিন্ন ক্লাব ও পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা।জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার শারদোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পুজো কমিটিগুলির জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পুজো মণ্ডপে বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক, জরুরি হেল্পলাইন নম্বর প্রদর্শন এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উপর তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি প্রবেশ ও প্রস্থান পথ চিহ্নিত করতে উজ্জ্বল রঙের সাইনেজ ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনবহুল এলাকায় উচ্চশব্দ ও ডিজে বক্সের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সুরক্ষায় সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। নির্দেশিকা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। বড় ও মাঝারি পুজো কমিটিগুলিকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক জানান, শারদোৎসবকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত চাঁদা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।ট্রাফিক সুপার কান্তা জাঙ্গির জানান, আগামী ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত নো-এন্ট্রি ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পাস ছাড়া নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের আওতায় যানবাহন চলাচল করা যাবে না। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ রোডম্যাপ ও নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। পুজো মণ্ডপের সামনে বা রাস্তায় ইট, বালি-সহ কোনও নির্মাণসামগ্রী না রাখার জন্যও তিনি আবেদন জানান। জরুরি পরিষেবার জন্য প্রয়োজনে গ্রিন করিডর রাখার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রসঙ্গে পশ্চিম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয়ের ডা. সুখেন্দু নাথ জানান, আগামী ১৯, ২২ ও ২৪ অক্টোবর বিভিন্ন হাসপাতালের বহির্বিভাগ (ওপিডি) খোলা থাকবে। মা দুর্গার গমন অনুষ্ঠান বা কার্নিভাল এবং দশমীঘাটে মেডিক্যাল টিম মোতায়েন থাকবে।সভায় ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের এজিএম প্রদীপ সূত্রধর, ত্রিপুরা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিক, আগরতলা পুরনিগমের অ্যাসিস্ট্যান্ট মিউনিসিপ্যাল কমিশনার কিশোর সরকার-সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক এবং পুজো কমিটির প্রতিনিধরা উপস্থিত ছিলেন।





