আগরতলা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে একদিনের জেলাস্তরের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড, পরিচ্ছন্ন গ্রাম, পরিচ্ছন্ন ব্লক’ শীর্ষক এই কর্মশালায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক ও স্বচ্ছ ভারত মিশনের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক রাকেশ দেববর্মা, পশ্চিম ত্রিপুরার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শঙ্কর চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্বজিৎ শীল বলেন, ওয়ার্ড, গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হলে গোটা জেলাকেই পরিচ্ছন্ন করে তোলা যাবে। স্বচ্ছ ভারত মিশনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উৎসবের মরশুমে পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের বাইরে গিয়ে বাস্তবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের উপর জোর দেন।অতিরিক্ত জেলাশাসক রাকেশ দেববর্মা পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত হিসেবে মেঘালয়ের মাওলিনং এবং ত্রিপুরার ভাংমুন গ্রামের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কোনও এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন।অন্যদিকে, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শঙ্কর চক্রবর্তী বর্জ্য পৃথকীকরণ ও সঠিক নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।কর্মশালায় বিডিও, জিলা পরিষদের সদস্য, গ্রাম প্রধান, পঞ্চায়েত সচিব-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় স্তরে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করে ওয়ার্ড, গ্রাম ও ব্লকগুলিকে আরও পরিচ্ছন্ন করে তোলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।





