29.2 C
Agartala
Tuesday, July 28, 2026

Buy now

spot_img

রাজ্যন্তরীয় পঞ্চায়েত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্বপ্ন ও সংকল্প একসঙ্গে চললেই অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন সম্ভব

আগরতলা, ১৭ জুলাই, ২০২৬ : সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধনই হল প্রকৃত উন্নয়ন। এই ইতিবাচক পরিবর্তনে পঞ্চায়েত কিংবা ভিলেজ কমিটির গুরুত্ব সর্বাপেক্ষা বেশি। পঞ্চায়েতগুলো হল গ্রামীণ মানুষের আস্থা ও ভরসার কেন্দ্র। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার জনপ্রতিনিধিগণ হলেন সেই আস্থা ও ভরসার রক্ষক। শুক্রবার অরুন্ধতিনগরের গ্রাম স্বরাজ ভবনে আয়োজিত রাজ্যন্তরীয় পঞ্চায়েত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে একথা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী  (ডা) মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ বিভিন্ন বিভাগে মোট ৫১টি পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন। পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জিলা পরিষদ, বিভিন্ন থিম ভিত্তিক বিশেষ উদ্যোগ, কর্মদক্ষ কর্মচারি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণকারীদের এই সকল পুরস্কার দেওয়া হয়। গ্রামোন্নয়ন (পঞ্চায়েত) দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অতিথিগণ দপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক রিপোর্ট সমন্বিত বুকলেট এবং পঞ্চায়েত এডভান্সমেন্ট ইনডেক্স ২.০ (পাই ২.০) বুকলেটেরও আবরণ উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতবর্ষের ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন। তাই ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়তে হলে অবশ্যই গ্রামের বিকাশ জরুরি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময় আত্মনির্ভর, ডিজিটাল, ক্ষমতায়িত গ্রাম গড়ে তোলার উপর জোর দিয়ে থাকেন। কারণ দেশের উন্নয়নের মূল কেন্দ্রই হল গ্রাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমসময়ই ত্রিপুরা রাজ্যের এগিয়ে যাওয়াকে প্রশংসা করেন। আমাদেরও প্রধানমন্ত্রীর এই বিশ্বাসকে মর্যাদা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে স্বপ্ন ও সংকল্প একসঙ্গে চললেই অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা রাজ্যের সুনাম আজ সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এরই স্বীকৃতি হিসাবে বিগত কয়েক বছর ধরে রাজাকে কেন্দ্রীয়স্তরের বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। তবে এই গৌরব শুধু কর্মচারি কিংবা জনপ্রতিনিধিদের নয়। এই গৌরব সাধারণ মানুষেরও। কারণ মানুষের আস্থাকে জয় করেই সমৃদ্ধ ও উন্নত গ্রাম গঠন করা সম্ভব। পুরস্কৃত হওয়ার পর এখন আরও বেশি উদ্ভাবনী ভাবনা নিয়ে সকলকে কাজ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয়ন্তরে পঞ্চায়েত এডভান্সমেন্ট ইনডেক্স ২.০তে সর্বোচ্চ স্কোর প্রাপ্ত গ্রাম, ব্লক ও জেলা ত্রিপুরা থেকেই রয়েছে। রাজ্যের ৮০ শতাংশ পঞ্চায়েত ‘এ’ গ্রেড অর্জন করেছে। যা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতে সম্ভব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গ্রামগুলিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর, দ্রুত ও স্বচ্ছ পরিষেবা প্রদানে ডিজিটাল ক্ষমতায়ণ সম্পন্ন, পরিবেশ বান্ধব, নারী নেতৃত্ব বিকাশ, উদ্ভাবনী সংস্কৃতির প্রসার, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রভৃতির উপর জোর দিতে পরামর্শ দেন। তিনি প্রতিটি গ্রামকে একটি বিশেষ ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিচিতি তৈরী করার উপরও জোর দিতে বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মচারিদের পাবলিক সার্ভেন্টের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে চেইঞ্জ মেকার ও নেশন বিস্তারের মানসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ৪টি জাতীয় পুরস্কার প্রাপকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এর মধ্যে নানাজী দেশমুখ সর্বোত্তম পঞ্চায়েত সতত বিকাশ পুরস্কার সিপাহীজলা জেলা, দীনদয়াল উপাধ্যায় পঞ্চায়েত সতত বিকাশ পুরস্কার-২০২৫র অধীন হেলদি পঞ্চায়েত বিভাগে প্রথম স্থানাধিকারী কাঞ্চনবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ওমেন ফ্রেন্ডলি বিভাগে তৃতীয় স্থানাধিকারী বৈকুন্ঠপুর ভিলেজ কমিটি ও ন্যাশন্যাল ই-গর্ভন্যান্স বিভাগে ২য় স্থানাধিকারী বিজয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের হাতে মুখ্যমন্ত্রী পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়াও রাজ্যস্তরীয় পঞ্চায়েত এডভান্সমেন্ট ইনডেক্স ২.০ বিভাগে বিভিন্ন জেলা, ব্লক, পঞ্চায়েত ও ভিসি সমূহকে এবং ৯টি বিভিন্ন বিভাগে ১ম, ২য় ও ৩য় পুরস্কার সহ বিভিন্ন বিভাগে নিজের কর্মদক্ষতার জন্যও কর্মচারিদের পুরস্কৃত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ পুরস্কারগুলি বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে আলোচনায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, সীমিত সম্পদ কখনও উন্নয়নের পথে অন্তরায় হতে পারে না। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল ত্রিপুরা রাজ্য। ক্ষুদ্র ও পাহাড়ী রাজ্য হলেও ত্রিপুরা অনেক ক্ষেত্রেই জাতীয় পুরস্কার অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। তাই বলা যায় দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা, সং নেতৃত্ব, সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা থাকলে কোন বাধাই বড় নয়। তিনি বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের মূল শক্তি গ্রামেই নিহিত রয়েছে। সরকার তখনই সফল হয় যখন একজন সাধারণ মানুষ মনে করেন সরকার পাশে রয়েছে। পঞ্চায়েতের সদস্য-সদস্যারাই হলেন গ্রামে সরকারের মুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং। অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন জিলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতিগণ, পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন ও ভাইস চেয়ারপার্সনগণ, বিভিন্ন পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধানগণ ছাড়াও জেলাশাসক, বিডিও ও বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কয়েকটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles