মোহনপুর, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বামুটিয়া ব্লকের অন্তর্গত দুর্গাবাড়ি সেন্ট্রাল টি প্রসেসিং ফ্যাক্টরি থেকে আজ উন্নতমানের ১৫.৩১ মেট্রিক টন চা কলকাতা এবং ৮ মেট্রিক টন চা গুয়াহাটির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। দুর্গাবাড়ির চা বাগানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পতাকা নেড়ে ত্রিপুরার চা বর্হিরাজ্যে পাঠানোর সূচনা করেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে সহ অন্যান্য অতিথিগণ।অনুষ্ঠানের সভাপতি ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের চেয়ারম্যান সমীর রঞ্জন ঘোষ বলেন, বর্তমানে নিগমের অধীনে পাঁচটি চা-বাগান রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বাগান থেকে বছরে প্রায় ৯ লক্ষ কেজি চা উৎপাদন হয়। নিগমের উৎপাদিত চা নিলামের মাধ্যমে কলকাতা ও গুয়াহাটিতে বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন কারণে অতীতে চায়ের উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম থাকত। ফলে চা শিল্প আর্থিকভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার গঠনের পর চা শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে চায়ের বিক্রয়মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে প্রতি কেজি চা প্রায় ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতো, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২০০ টাকা প্রতি কেজি হয়েছে। বর্তমানে সঠিকভাবে বাগান ও উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চা উৎপাদন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চায়ের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর বর্তমান সরকারের উদ্যোগে রাজ্যের চা শিল্প নতুনভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ২২ ধরনের সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি চা শ্রমিকদের জমির পাট্টাও প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া চা শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা বৃদ্ধি করে ২০৪ টাকা করা হয়েছে। ত্রিপুরায় উৎপাদিত চা রাজ্যেই নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে চায়ের নিলাম ব্যবস্থা চালু হলে চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার সহকারি অধিকর্তা বিমান সাহা, সমাজসেবী শিবেন্দ্র দাস, ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের আধিকারিকগণ এবং ত্রিপুরা চায়ের প্রচার ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিগমের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর রাজেশ কুমার দাস। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন টি বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য গোপাল চক্রবর্তী।





