আগরতলা, ৮ মে, ২০২৬ : ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত এবছর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের হার ৮৪.১৮ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের হার ৭৯.৩৩ শতাংশ। আজ ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ড. ধনঞ্জয় গন চৌধুরী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে সচিব ড. জয়দীপ ভট্টাচার্য সহ পর্ষদের বিভিন্ন আধিকারিক ও ওএসডি-গণ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি ড. ধনঞ্জয় গন চৌধুরী বলেন, এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৪ মার্চ শেষ হয় এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩০ মার্চ সমাপ্ত হয়। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ ৬ এপ্রিল শুরু হয়ে ২৭ এপ্রিল শেষ হয়। এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩২, ১৮৪ জন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ২৭,০৯৪ জন। পাশের হার ৮৪.১৮ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৬৫০২ জন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ২১,০২৪ জন। পাশের হার ৭৯.৩৩ শতাংশ। মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ-এর নিরিখে মহকুমাভিত্তিক সেরা ফলাফল হয়েছে করবুক মহকুমায় পাশের হার ৯৭.৯১ শতাংশ। জম্পুইজলা মহকুমায় পাশের হার ৯৭.৪৮ শতাংশ এবং উদয়পুর মহকুমায় ৯১৬১ শতাংশ। অপরদিক সর্বনিম্ন পাশের হার গন্ডাছড়া মহকুমায়, ৬৮.৮১ শতাংশ। এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ২৭১টি বিদ্যালয়ে পাশের হার ১০০ শতাংশ। মাধ্যমিক সমতুল্য মাদ্রাসা আলিম পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৪১ জন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১২৮ জন। পাশের হার ৯০.৫৬ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক সমতুল্য মাদ্রাসা ফাজিল পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৪ জন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৭৯ জন। পাশের হার ৯৪.০৪ শতাংশ।উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের নিরিখে মহকুমাভিত্তিক সেরা ফলাফল করেছে জম্পুইজলা মহকুমা। ছাত্রছাত্রীদের পাশ-এর হার ৯৮. ১৬ শতাংশ। তেমনি বিলোনীয়া মহকুমায় ৯০.১৯ শতাংশ এবং কাঞ্চনপুর মহকুমায় পাশ-এর হার ৯০.০৫ শতাংশ। পাশের হার সব থেকে কম গন্ডাছড়া মহকুমায়, ৫৬৮৫ শতাংশ। এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬২টি বিদ্যালয়ে পাশের হার ১০০ শতাংশ। সাংবাদিক সম্মেলনে পর্ষদের সচিব ড. জয়দীপ ভট্টাচার্য জানান, এ বছর তাৎক্ষণিকভাবে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে রিভিউ প্রক্রিয়া ও ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর প্রথম দশজনের মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও জানান, আগামী সাত থেকে আট দিনের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নিজ নিজ বিদ্যালয় থেকে মার্কশিট সংগ্রহ করতে পারবে। যেসব পরীক্ষার্থী ফলাফলের রিভিউ করতে ইচ্ছুক, তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে এবং বিদ্যালয়গুলিকে দশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র পর্ষদ কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য আনুরোধ জানানো হয়েছে।পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কাজে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা, মূল্যায়নকারী আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতার জন্য পর্ষদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পর্ষদের সভাপতি।





