আগরতলা, ২১ আগস্ট, ২০২৬ : ত্রিপাক্ষিক শান্তিচুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৭২ ঘণ্টার ত্রিপুরা বনধের ডাক দিয়েছে এনএলএফটি (পরিমল দেববর্মা), এনএলএফটি (অরিজিনাল) এবং এটিটিএফ-এর আত্মসমর্পণকারী গোষ্ঠীগুলির যৌথ কমিটি।শুক্রবার আগরতলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে আত্মসমর্পণকারী নেতা পরিমল দেববর্মা জানান, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারত সরকার, ত্রিপুরা সরকার এবং তিন আত্মসমর্পণকারী গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিপাক্ষিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় দুই বছর পরও তার বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।যৌথ কমিটির অভিযোগ, শান্তিচুক্তির আওতায় আত্মসমর্পণকারী ক্যাডারদের বিভিন্ন দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির কোনওটিরই কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। এর প্রতিবাদেই আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধসহ সারা রাজ্যে ৭২ ঘণ্টার বনধের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১২ জুন রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনের পর জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলি পূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৭ জুন মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ত্রিপাক্ষিক শান্তিচুক্তি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই বৈঠকের পরও দাবিগুলি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ যৌথ কমিটির। বিশেষ করে আত্মসমর্পণকারী ক্যাডারদের তালিকার সরকারি স্বীকৃতি, পুনর্বাসন এবং বিভিন্ন মামলা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলি এখনও পূরণ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিমল দেববর্মার বক্তব্য, চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের বনধ ও জাতীয় সড়ক অবরোধের মাধ্যমে সরকারকে তাদের দাবিগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেওয়াই যৌথ কমিটির মূল লক্ষ্য।





