27 C
Agartala
Saturday, September 12, 2026

Buy now

spot_img

গ্রামীণ স্তরে সাপের কামড়ে মৃত্যুহার শূন্যে নামাতে গোমতী জেলায় সচেতনতা কর্মশালা

আগরতলা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গ্রামীণ স্তরে সাপের কামড়ে মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনতে এবং সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার গোমতী জেলায় এক বিশেষ সচেতনতামূলক মেগা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোমতী জেলার জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের উদ্যোগে উদয়পুরের পঞ্চায়েত রাজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ‘সাপের কামড় ও বন্যপ্রাণীর কামড় ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এই মেগা কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই কর্মশালায় জেলার আশাকর্মী, এএনএম, এমপিডব্লিউ, সিএইচও,টিআরএলএম-এর ‘স্বাস্থ্য সখী’, আপদামিত্র এবং সিভিক ভলান্টিয়ার-সহ মোট ১৮৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে বিষধর ও নির্বিষ সাপ চেনার সহজ উপায় এবং সাপের কামড়ের পর প্রাথমিক করণীয় সম্পর্কে অবগত করা।অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক ও সর্প বিশেষজ্ঞ ডাঃ উদয় শঙ্কর সরকার এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষক দীপ্তনু দেবনাথ। দীর্ঘদিন ধরে সাপ উদ্ধার, সংরক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁদের নিরলস অবদানের কথা স্মরণ করে জেলার প্রোগ্রাম অফিসার ডাঃ শৌমিক চক্রবর্তী আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণের ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা সামাজিক স্তরে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন। কর্মশালায় জানানো হয়, স্বাস্থ্যদপ্তর এবং এই বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় গত সাড়ে পাঁচ মাসে গোমতী জেলায় প্রায় ১৫টি সাপের কামড়ের ঘটনা সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে। সঠিক সময়ে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার অভাবে অতীতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কর্মশালায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষক দীপ্তনু দেবনাথ পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, সাপের কামড়ে জেলায় ২০২৩ সালে ৫ জন, ২০২৪ সালে ৪ জন, ২০২৫ সালে ৭জন এবং চলতি ২০২৬ সালে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাই মৃত্যু রোধ করতে এই ধরণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।কর্মশালা থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, সাপে বা কোনো বন্যপ্রাণী কামড়ালে রোগীকে কখনোই ওঝা বা কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ, বিষধর সাপের কামড়ে ওঝা বা তাবিজ-কবজ কোনো কাজে আসে না, উল্টে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে। সময় নষ্ট হলে তখন চিকিৎসকদেরও কিছু করার থাকে না। তাই রোগীকে অবিলম্বে নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাপে কাটার পর প্রথম ১০০ মিনিটকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ‘গোল্ডেন পিরিয়ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন ডাঃ উদয় শঙ্কর সরকার।তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অ্যান্টি-ভেনাম প্রয়োগ করা গেলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। জেলার সমস্ত জেলা ও মহকুমা হাসপাতাল, সিএইচসি এবং পিএইচসি-তে অ্যান্টি-ভেনাম এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর কামড়ের জন্য অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উপলব্ধ রয়েছে। পাশাপাশি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপ বা কোনো বন্যপ্রাণী হত্যা না করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়েরই সুস্থ সহাবস্থান সুনিশ্চিত করাই তাঁদের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles