আগরতলা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : আগরতলা পুরনিগম এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করে তুলতে একাধিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার কলেজটিলায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ওভারহেড ট্যাঙ্ক নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী (ডা.) মানিক সাহা।রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন থেকে ভার্চুয়ালি তিনি ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজটিলায় ৬৮১ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং ৬৮০ কিলোলিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড ট্যাঙ্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্প দুটির জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১৮ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা।এদিন একই অনুষ্ঠানে হোয়াটসঅ্যাপ-ভিত্তিক অভিযোগ জানানোর ‘কলিং সিস্টেম’-এর সূচনা এবং র্যাপিড রেসপন্স টিমের জন্য অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১০টি গাড়ির যাত্রা শুরু করা হয়। র্যাপিড রেসপন্স টিমের যানবাহন ও ট্রাক-মাউন্টেড ওয়াটার ট্যাঙ্কারের জন্য ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৭৮ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগরিকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে জল সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগরতলা পুরনিগমের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ পানীয়জল পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কলিং সিস্টেম ও AI-ভিত্তিক রেসপন্স টিম চালু করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরনিগমের চারটি জোনের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে এই প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। উন্নয়নমূলক কাজের সময় কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা হলেও দ্রুত তা সমাধান করা হবে বলেও তিনি জানান। উন্নত ও জনবান্ধব আগরতলা গড়ে তুলতে নাগরিকদের সহযোগিতার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, নাগরিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুরনিগম এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। বিশুদ্ধ পানীয়জল সরবরাহ ও শহর পরিচ্ছন্ন রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানে নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব ডা. মিলিন্দ রামটেকে, ত্রিপুরা জল বোর্ডের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক মিহির কান্তি গোপ, ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্তসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।এদিন মুখ্যমন্ত্রী আগরতলা পুরনিগম এলাকার দুটি স্বসহায়ক দলের চারজন অমৃত মিত্র সদস্যার হাতে ৫ হাজার টাকার চেক ও স্মারক উপহার তুলে দেন। পাশাপাশি ত্রিপুরা জল বোর্ডের সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা একটি বুকলেটের আবরণও উন্মোচন করেন।






