আগরতলা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এবং সদর মহকুমা আইনি পরিষেবা কমিটির সহযোগিতায় রবিবার আগরতলার জেলা ও দায়রা আদালত ভবনের কনফারেন্স হলে “সর্বে ভবন্ধু সুখিনঃ” শীর্ষক এক বিশেষ আইনি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো: আসন্ন দুর্গোৎসবে অতিরিক্ত শব্দ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রত্যেক ক্লাব কর্তৃপক্ষের মধ্যে আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আইনি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।অনুষ্ঠানে পশ্চিম জেলার জেলা ও দায়রা বিচারক আশুতোষ পান্ডে এই সচেতনতামূলক আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সকলের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য আগামী দিনের দুর্গোৎসবে শব্দের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ রক্ষার স্বার্থে কাজ করা। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী দিনে উৎসবের আনন্দে শব্দের ব্যবহার যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে। সমাজের প্রত্যেকের শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার দিকে খেয়াল রেখে শব্দ ব্যবহার করে সকলে যেন এই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে ত্রিপুরা দূষণ নিয়ন্ত্রন পর্ষদের বিজ্ঞানী দীপক রুদ্র পাল জনজীবনে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন।শিবিরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলা, অপ্রয়োজনীয় উচ্চ শব্দ পরিহার করা এবং সাইলেন্ট জোন যেমন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, ডিজে ও উচ্চ শব্দযুক্ত সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিনিষেধ মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।এই আলোচনায় সম্মানিত অতিথি এবং আধিকারিকদের হাত ধরে একটি প্রচারমূলক ব্যানার প্রকাশ করা হয় এবং সেই ব্যানারটি প্রত্যেকটি ক্লাবের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সেটি তাদের ক্লাবের একটি সঠিক জায়গায় প্রদর্শিত করার জন্য। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিচারক সূর্যদেব সিংহ, জেলা সচিব রামানুজ ভট্টাচার্য, রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত সচিব তড়িৎ কান্তি চাকমা, বার অ্যাসোসিয়েশনের বরিষ্ঠ আইনজীবী মৃণাল কান্তি বিশ্বাস সহ আরক্ষা দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আধিকারিকগণ। সেই সঙ্গে আগরতলার শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।





