আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়ে আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে অনুষ্ঠিত হলো জেলা-স্তরের কর্মশালা। বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাভবনের ২ নম্বর হলে আয়োজিত এই কর্মশালায় মাদকবিরোধী লড়াইয়ে প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, ক্লাব এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার। এছাড়াও রাজ্য প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিক, পুলিশকর্মী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার বলেন, মাদকবিরোধী পদক্ষেপ শুধু মাদক বহনকারী বা মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদক ব্যবসার আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং মাদক সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
একইসঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও মাদক বহনকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের উপযুক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার ওপরও গুরুত্ব দেন জেলাশাসক। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় ক্লাব ও সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন ডা. বিশাল কুমার। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য ক্লাবগুলির প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় মানুষকে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী কাজে সক্রিয় ক্লাবগুলিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।কর্মশালায় প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমারী সংস্থার প্রতিনিধিরা মানসিক সুস্থতা, চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং আধ্যাত্মিক নিরাময় নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন পরিচালনা করেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মাদকমুক্তির চিকিৎসা পদ্ধতি, ক্লিনিক্যাল বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রোটোকল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।এদিন যুব সমাজকে মাদকবিরোধী কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়। মাদক প্রতিরোধে যুবসমাজের পাশাপাশি বিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলাশাসক রাকেশ দেববর্মা। নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (NDPS) আইন এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন ডিএসপি সীমা বিশ্বাস।কর্মশালায় সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার অচিন্তম কিলিকদার, প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমারীর গৌরী বেহেন-সহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার মাধ্যমে মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে।





