আগরতলা, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্য সরকার জনগণের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি সহ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে কাজ করছে। এই অগ্রগতি সুস্থায়ী ও সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতি রাজ্য সরকারের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে। সুশাসন, স্বচ্ছ প্রশাসনের জন্য গত আট বছরে ৩৬০-এর বেশি জাতীয় ও আঞ্চলিক পুরস্কার অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।শনিবার আসাম রাইফেলস ময়দানে আয়োজিত দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের যৌথ সংগ্রাম, জাতীয় ঐক্য এবং বিকশিত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার এক ও অভিন্ন স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। বিগত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের দেশ ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’- এই মূলমন্ত্রকে পাথেয় করে এক নতুন ‘অ্যাসপিরেশনাল ইন্ডিয়া’ হিসেবে গড়ে উঠেছে। দরিদ্র, কৃষক, মহিলা ও যুবসমাজের কল্যাণ ও সশক্তিকরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এই অগ্রযাত্রায় আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যও উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। রাজ্য সরকার ত্রিপুরার প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ সৃষ্টি এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। মাত্র ৬ বছরের মধ্যে আমরা রাজ্যের জিডিপি দ্বিগুণ করতে সক্ষম হয়েছি। একইসঙ্গে, বর্তমানে ত্রিপুরার মাথাপিছু গড় আয় দেশের মাথাপিছু আয়ের সমপর্যায়ে পৌঁছেছে। ত্রিপুরাই দেশের একমাত্র রাজ্য, যেখানে রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত সফলভাবে ই-অফিস ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। গত দুই বছর ধরে কমপ্লায়েন্স রিডাকশন অ্যান্ড ডি-রেগুলেশন এক্সারসাইজে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে আসছে। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ত্রিপুরাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইজ অব ডুয়িং বিজনেস-এর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের ইতিবাচক ফলস্বরূপ ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬-এ দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা ত্রিপুরায় বিনিয়োগের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই বিজনেস কনক্লেভে রাজ্য সরকার মোট ৪৬৮টি মউ স্বাক্ষর করেছে, যার সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা। রাজ্যের সমস্ত প্রধান ক্ষেত্রগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করেই এই মউগুলি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সিপাহীজলা জিলা পরিষদকে দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জেলা পঞ্চায়েত হিসেবে ‘নানাজি দেশমুখ সর্বোত্তম পঞ্চায়েত সতত্ব বিকাশ পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়েছে। একইভাবে, ঊনকোটি জেলার কাঞ্চনবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত সারা দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্যকর পঞ্চায়েত হিসেবে ‘দীনদয়াল উপাধ্যায় পঞ্চায়েত সতত্ব বিকাশ পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা ৯৫ শতাংশেরও বেশি সাক্ষরতার হার নিয়ে দেশের তৃতীয় ‘সম্পূর্ণ সাক্ষর’ রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি করেছে। ত্রিপুরার গর্ব আমাদের রাজ্যের কন্যা অস্মিতা দে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ জুডোতে দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জয় করে সমগ্র রাজ্য দেশকে গর্বিত করেছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্পের আওতায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিষাণ ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৬ হাজার ৬০০ কৃষককে মোট ৪৩৮ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রাণীসম্পদ বিকাশ যোজনার অধীনে ৩০ হাজার ৪১৪ জন সুবিধাভোগীকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাণীপালক সম্মাননিধির আওতায় ৫ হাজার প্রাণী পালককে সম্মানিত করা হয়েছে। প্রাণীপালকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাণী বীমা কর্মসূচিতে রাজ্যের ২১ হাজার ৩১১টি প্রাণীকে বীমার আওতায় আনা হয়েছে। মৎস্যচাষিদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১ লক্ষ ১০ হাজার ৬৫৯ জন মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের গ্রুপ এক্সিডেন্ট ইন্স্যুরেন্স প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। বিশ্বের আগর বাজারে রাজ্যের অবস্থান মজবুত করতে আগরতলায় আগর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার এবং কদমতলায় ইন্টিগ্রেটেড আগরউড ক্লাস্টার স্থাপন করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উদয়পুরের বনদুয়ারে ৫১ শক্তিপীঠের অবিকল প্রতিরূপ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায় কসবা কালীবাড়ি, চতুর্দশ দেবতা মন্দির, কৈলাসহরের সোনামুখী এলাকা, ছবিমুড়া, অমরসাগর ও ফটিকসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলির উন্নয়নের কাজ চলছে। আগরতলার পুষ্পবস্ত প্যালেসে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট তাজ পুষ্পবন্ত প্যালেস হোটেল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। মাতাবাড়ি ট্যুরিজম সার্কিটের আওতায় উদয়পুরের অমর সাগর এবং নারকেলকুঞ্জে জোড়া দ্বীপের উন্নয়ন, কল্যাণ সাগরের উন্নয়ন, জলকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মাতাবাড়িতে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং-এর কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল এডুকেশন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও স্পেশালাইজড মেডিক্যাল পরিষেবার উন্নয়নে ত্রিপুরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য চিকিৎসা শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সমূহের কাজকর্ম আরও সুচারুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৯টি কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খোয়াই ও সিপাহীজলার নতুন জেলা হাসপাতাল এবং জিরানীয়া, মোহনপুর ও উদয়পুরের মহকুমা হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। আগরতলার জ্যাকসন গেট এলাকায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সিভিল হাসপাতাল চালু হয়েছে। এই হাসপাতালে সান্ধ্যকালীন ওপিডি পরিষেবার সুবিধাও রয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার অধীনে ৫ লক্ষ ৭০ হাজারের বেশি সুবিধাভোগী ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসায় ৩০৭ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। আগরতলায় ত্রিপুরা সরকারি হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ এবং নেতাজি সুভাষ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল এবং উদয়পুরে ত্রিপুরা সরকারি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষথেকে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়গুলির শিক্ষার মান এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১২৫টি বিদ্যাজ্যোতি বিদ্যালয় উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। নবম শ্রেণির ছাত্রীদের মধ্যে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০৯টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নলছড় গভর্নমেন্ট উইমেন্স ডিগ্রি কলেজের পঠন পাঠন শুরু হয়েছে। উইমেন্স কলেজকে ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট উইমেন্স ইউনিভার্সিটিতে উন্নীত করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১২ হাজারেরও বেশি যুবক যুবতীর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২০০ জন চাকরি লাভ করেছেন। গ্রামীণ মহিলাদের আর্থিক ও সামাজিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশনের মাধ্যমে প্রায় ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার গ্রামীণ মহিলাকে ৫৫ হাজার ৬৯৩ টি স্বসহায়ক দলের আওতায় সংগঠিত করা হয়েছে। স্বসহায়ক দলগুলিকে আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে ৮৩৭ কোটি টাকার কমিউনিটি ফান্ড এবং ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ প্রদান করা হয়েছে। রাজ্যে একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে হাপানিয়ায় টি-নেস্ট বা ত্রিপুরা নারচারিং এনট্রাপ্রেনারশিপ এন্ড স্টার্ট আপস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আইটি, আইটিইএস ও ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ত্রিপুরা আইটি এবং ডেটা ইকোসিস্টেম জোন-এর প্রস্তাব করা হয়েছে এবং আইটি পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। শহরাঞ্চলে জল সরবরাহ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে আমরুত ১ প্রকল্পের বাস্তবায়নে ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ও হিমালয়ান রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রুখিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ১২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড-সাইকেল প্ল্যান্টে উন্নীত করা হচ্ছে। দূরবর্তী এলাকার জনজাতি পরিবারগুলির বিদ্যুতায়নের জন্য সৌরশক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনার আওতায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সেচের জন্য সৌরচালিত পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজ্যের সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে আগরতলা-চূড়াইবাড়ি এবং আগরতলা-উদয়পুর জাতীয় সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে চলেছে। রাজ্যের মোট ২ লক্ষ ৫৫ হাজার হেক্টর কৃষিযোগ্য জমির মধ্যে ১ লক্ষ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। গত বছরে আরও অতিরিক্ত ১,৪৮৪ হেক্টর কৃষিযোগ্য জমিকে জলসেচের আওতায় আনা হয়েছে। রাজ্যের ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার গ্রামীণ পরিবারকে পানীয়জলের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার গত বছর কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় ৫২ হাজার ২৩৮ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করেছে। প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতায় ১ লক্ষ ৫৭হাজার মেট্রিক টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। গত বছর রাজ্যে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নেশামুক্ত অভিযানের আওতায় মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে রেকর্ড পরিমাণ নেশা জাতীয় দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট সিস্টেম (ইআরএসএস)-এর মাধ্যমে পুলিশ আগরতলায় গড়ে ৮ মিনিট এবং অন্যান্য এলাকায় ১৪ মিনিটের রেসপন্স টাইম বজায় রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে উদয়পুরে সিন্থেটিক ফুটবল টার্ফ, ধর্মনগরে একটি ইনডোর হল, তেলিয়ামুড়ায় একটি ইনডোর হল, এনএসআরসিসি আগরতলায় একটি বাস্কেটবল কোর্ট, খোয়াইয়ে একটি টেনিস কোর্ট এবং রাজ্যজুড়ে ২০টি ওপেন জিম স্থাপন করা হয়েছে। দিব্যাঙ্গন ক্রীড়াবিদদের প্রতিভা তুলে ধরতে ও তাদের উৎসাহিত করতে আমরা সফলভাবে তৃতীয় প্যারা গেমসের আয়োজন করেছি। ঐতিহাসিক চতুর্পাক্ষিক চুক্তির আওতায়
রাজ্যের চারটি জেলার ১২টি স্থানে ৬ হাজার ৯৩৫টি ক্রু পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। ক্র পরিবারের প্রায় ৬ হাজার যুবক যুবতীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পেশাগত কোর্সে অধ্যয়নরত ৯২৯ জন তপশিলি জাতি ছাত্রছাত্রীকে ৫০ হাজার টাকার এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ১০০টি এসটি হোস্টেলে স্মার্ট ক্লাসের সুবিধা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে বর্তমানে ১২টি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় (ইএমআরএস) চালু রয়েছে। জুম চাষের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির জীবিকা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জুম চাষ সাহায্য প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ৭০০- এর বেশি জুমিয়া পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। রাবার চাষের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশনের মাধ্যমে ২৯ হাজার পরিবার উপকৃত হয়েছে। পিএম-জনমন কর্মসূচির আওতায় ১৭ হাজার পরিবারের জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণ, ১১ হাজারের বেশি পরিবারের বিদ্যুতায়ন, ৩০টি বনধন বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন, ২২৬টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, ৩২টি হোস্টেল স্থাপন এবং প্রত্যন্ত জনবসতিতে সড়ক ও মোবাইল সংযোগ প্রদানের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। শিশুদের প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে ১০২টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে ইংরেজি মাধ্যম মডেল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে উন্নীত করা হয়েছে। ১০টি ওয়ার্কিং উইমেন হোস্টেল নির্মাণাধীন রয়েছে, পাশাপাশি চারটি সখী নিবাস হোস্টেল চালু রয়েছে। ৩ লক্ষ ৮৭ হাজারেরও বেশি যোগ্য সুবিধাভোগীকে সামাজিক সুরক্ষা ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। কৃষি ও শিল্পের বিকাশ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর, মহিলা ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, পরিকাঠামোর নির্মাণ থেকে পরিবেশ সুরক্ষা, এই প্রতিটি ক্ষেত্রের সাফল্যই ‘এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গঠনের প্রতি আমাদের সরকারের দৃঢ়ড় ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রতিফলন।আসাম রাইফেল মাঠে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে সিকিউরিটি এবং নন সিকিউরিটি বিভাগে ১৬টি প্ল্যাটুন কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। এরমধ্যে রয়েছে বিএসএফ, আসাম রাইফেলস, সিআরপিএফ, মিজোরাম স্টেট পুলিশ (পুরুষ), টিএসআরের ১৪ নং ব্যাটেলিয়ন (পুরুষ) এবং ১৫ নং ব্যাটেলিয়ন (মহিলা), পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশ (পুরুষ), ট্রাফিক পুলিশ (পুরুষ), হোম গার্ডস (পুরুষ), এনসিসি বয়েজ ও গার্লস, স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস (বয়েজ অ্যান্ড গার্লস), এনএসএস, সিভিল ডিফেন্স এবং আসাম রাইফেলস পাবলিক স্কুল। উৎকর্ষতার নিরিখে বিজয়ী প্ল্যাটুনগুলিকে পুরস্কৃত করা হয়। এরমধ্যে সিকিউরিটি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বিএসএফ প্ল্যাটুন। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আসাম রাইফেলস প্ল্যাটুন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশ প্ল্যাটুন। নন সিকিউরিটি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে আসাম রাইফেলস পাবলিক স্কুল। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এনসিসি গার্লস প্ল্যাটুন। তৃতীয় স্থান অধিকার করে সিভিল ডিফেন্স প্ল্যাটুন। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ী প্ল্যাটুন কমান্ডারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়াও মূল অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, শিক্ষা দপ্তর, টিটিএএডিসি এবং যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ কৃতী দেবী সিং দেববর্মণ, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা, রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহানির্দেশক জি. এস. রাও সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিবগণ এবং আরক্ষা প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকগণ।






