আগরতলা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের (টিটিএএডিসি) অন্তর্গত ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে চূড়ান্ত ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৮১.২১ শতাংশ। মঙ্গলবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. পি কে চক্রবর্তী।কমিশনার জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথম পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসারদের রিপোর্ট অনুযায়ী বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ওই সময় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আরও ১০,৮৫০ জন ভোটার লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। পরবর্তীতে প্রিসাইডিং অফিসারদের ডায়েরিতে দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে ভোটদানের হার দাঁড়ায় ৮১.০১ শতাংশ। এর সঙ্গে ইডিভি ভোট যুক্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত ভোটদানের হার হয়েছে ৮১.২১ শতাংশ।এদিকে, মাতাবাড়ি আরডি ব্লকের গামারিয়া ভিলেজ কমিটির ৩ ও ৪ নম্বর আসন এবং অমরপুর আরডি ব্লকের পাহাড়পুর ভিলেজ কমিটির ৪ নম্বর আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর এই তিনটি আসনে ভোটগ্রহণ হবে।
৫৮৭ ভিলেজ কমিটিতে ভোটএবারের নির্বাচনে ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৯,৬১,৯৭৭ জন। মনোনয়ন ও নাম প্রত্যাহারের পর ১,৬৪৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে বিজেপির ৮১ জন, তিপ্রা মথার ১,৫৬১ জন, সিপিআই(এম)-এর একজন এবং একজন নির্দল প্রার্থী রয়েছেন।ফলে ৪৪টি আরডি ব্লকের ২,৯৫০টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই আসনগুলিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৮,১৭৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণের আগে নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত আধিকারিক, নিরাপত্তাকর্মী ও অন্যান্য কর্মীদের ৬,৬২৮টি ইডিভি ভোট গ্রহণ করা হয়।আটটি অভিযোগ কমিশনের কাছে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, রাজ্যের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে মোট আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে।অভিযোগগুলির অধিকাংশই পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার বিষয়ে। এ বিষয়ে পর্যবেক্ষক ও রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কিছু অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকায় সেগুলি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলির তদন্ত ও অনুসন্ধানের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কমিশনার।নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য ভোটারদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। একই সঙ্গে জেলা নির্বাচন আধিকারিক, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, সেক্টর অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের ধন্যবাদ জানান তিনি। নির্বাচন পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতার জন্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর, ত্রিপুরা পুলিশ, টিএসআর, সিএপিএফ, আইবি ও এসবি-সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিক ও কর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন।






