25.3 C
Agartala
Thursday, July 30, 2026

Buy now

spot_img

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্রিপুরার মহিলাগণ যে সাফল্য দেখিয়েছেন তা যথেষ্ট প্রশংসনীয়: জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন

আগরতলা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্রিপুরার মহিলাগণ যে সাফল্য দেখিয়েছেন তা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। সারা দেশে এজন্য তারা যথেষ্ট প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। আগামী দিনেও রাজ্যের মহিলারা এই অগ্রগতি বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সোনারতরী অতিথিশালায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকার এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন তাঁর ৩ দিনের রাজ্য সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পশ-অ্যাক্ট এর কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি সরকারি কার্যালয়ে এই আইনটির যথাযথ ব্যবহার হওয়া উচিত। কর্মরত মহিলাদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই আইনটি এক বিরাট ভূমিকা নিয়ে থাকে। তিনি বলেন, আরক্ষা বাহিনীতেও মহিলারা যাতে সুরক্ষিত থাকেন সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে। নারী পাচার রোধে আরও কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব সহ রাজ্য প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিক এবং বিএসএফ-র পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকার জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেছেন এবং রাজ্যের মহিলাদের জন্য গৃহীত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।তিনদিনের রাজ্য সফরে এসে গতকাল জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন গোমতী জেলায় নারীদের সুরক্ষা, সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে নারীদের বেশি করে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি লাখপতি দিদিদের সাথে কথাবার্তা বলেন, তাদের সুবিধা-অসুবিধা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত হন। একইসঙ্গে লাখপতি দিদিদের তৈরী বিভিন্ন সামগ্রীও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মহিলা জনপ্রতিনিধিদের সাথে পর্যালোচনা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। সমাজে মহিলারা এখন কি অবস্থানে রয়েছেন সে সম্পর্কেও তিনি সবার সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। এছাড়া উদয়পুরের রাজর্ষি হলে রাজ্যের সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায়ের উপস্থিতিতে তিনি বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উদয়পুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। বৃহস্পতিবার রাজ্য মহিলা কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন অংশগ্রহণ করেন। এবিষয়ে জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বলেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতবর্ষকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করার উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করেছে। সবার সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাজ্য সরকারগুলিকেও এবিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।এদিকে জাতীয় মহিলা কমিশনের উদ্যোগে আজ আগরতলার সুকান্ত একাডেমিতে প্রিভেনশন অফ সেক্সুয়াল হেরাসমেন্ট (পস) উপর একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকার। কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রীমতি রাহাতকার বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা সকল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তিনি প্রতিটি কর্মস্থলে পস অ্যাক্ট-র অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন, নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন, অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি করা এবং ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি রোধে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয় কর্মক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা, রাজ্য সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব তপন কুমার দাস, জাতীয় মহিলা কমিশনের উপ অধিকর্তা প্রমুখ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles