25.3 C
Agartala
Thursday, July 30, 2026

Buy now

spot_img

কমিউনিটি হেলথ অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় কোনও অনিয়ম হয়নি, দাবি স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তের

আগরতলা, ৩০ জুলাই, ২০২৬: জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (এনএইচএম)-এর অধীনে কমিউনিটি হেলথ অফিসার (সিএইচও) নিয়োগ পরীক্ষায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি বলে স্পষ্ট জানালেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে এবং অভিযোগগুলির বিস্তারিত তদন্তেও কোনও অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি।স্বাস্থ্য সচিব জানান, ১১ মাসের চুক্তিভিত্তিক ১২৬ জন কমিউনিটি হেলথ অফিসার নিয়োগের জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের পরীক্ষায় মোট ৩,৯৩৭ জন আবেদন করেন এবং ২,৬১৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। গত ১৫ জুলাই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

তিনি বলেন, ফল প্রকাশের আগে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর্যন্ত পরীক্ষা নিয়ে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। তবে ফল ঘোষণার পাঁচ দিন পর, ২০ জুলাই প্রথম অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে বলা হয়, পরীক্ষা ওএমআর শিটে নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কিরণ গিত্তে জানান, যেহেতু এটি একটি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, তাই ওএমআর শিট ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিংয়ের ব্যবস্থাও ছিল বলে জানান স্বাস্থ্য সচিব।সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া, হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়া এবং ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ সংক্রান্ত অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্তে এসব অভিযোগের কোনও নির্ভরযোগ্য বা সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, যে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি পরীক্ষার আগের দিন ৩১ জানুয়ারি পোস্ট করা হয়েছিল। ওই বার্তার উৎসকে দু’দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমবার তিনি মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার কথা জানান। পরে তিনি জানান, এক বন্ধু সম্ভাব্য কিছু প্রশ্ন মুখে মুখে জানিয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, ওই তালিকার মাত্র পাঁচটি প্রশ্ন পরীক্ষায় এসেছিল এবং সেগুলি আগের বিভিন্ন পরীক্ষায় ব্যবহৃত সাধারণ ধরনের প্রশ্ন ছিল।

কিরণ গিত্তে জানান, লিখিত অভিযোগে কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্র ও কিছু পরীক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তদন্তে দেখা যায়, উচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে ও আলাদা আলাদা হলে পরীক্ষা দিয়েছেন এবং তাদের রোল নম্বরও ধারাবাহিক ছিল না।তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, টাইপিং, গভর্নমেন্ট প্রেসে মুদ্রণ, পরিবহণ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে বিতরণ—প্রতিটি ধাপের ভিডিও ফুটেজ ও নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। তদন্তে কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও সম্ভাবনা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।স্বাস্থ্য সচিব বলেন, বর্তমানে দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকারও এ ধরনের অপরাধ রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তাই ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বা অবিশ্বাস সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সামান্যতম প্রমাণও পাওয়া যেত, তাহলে পরীক্ষা বাতিল করা হতো। কিন্তু তদন্তে এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি। বহু পরীক্ষার্থী নিজেদের পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল হয়েছেন।”স্বাস্থ্য সচিব আরও জানান, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিবহণ এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কমিটির রিপোর্ট এবং সামগ্রিক তদন্তের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, কমিউনিটি হেলথ অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় কোনও ধরনের কারচুপি বা অনিয়ম হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন ডিরেক্টর সাজু বাহিদ এবং স্বাস্থ্য অধিকারের যুগ্ম অধিকর্তা ডা. অলক দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles