আগরতলা,২ মে ২০২৬ : ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের বার্ষিক সাংবাদিক সম্মেলন আজ আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতি, আর্থিক সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান সত্যেন্দ্র সিং।১৯৭৬ সালের ২১ ডিসেম্বর মাত্র ৪৫০০ টাকার ব্যবসা দিয়ে যাত্রা শুরু করা ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে এসে দাঁড়িয়েছে ১৫,৪০০ কোটিরও বেশি ব্যবসায়। শুরুতে আগরতলা, বিশ্রামগঞ্জ, বিশালগড় এবং জোলাইবাড়িতে চারটি প্রতিষ্ঠাতা শাখা নিয়ে পথচলা শুরু করলেও বর্তমানে ব্যাংকটি ত্রিপুরার আটটি জেলাজুড়ে ১৫০টি শাখা, ১৩টি অতি ক্ষুদ্র শাখা, ৩টি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ৪৩টি এটিএমের মাধ্যমে পরিষেবা প্রদান করছে।ব্যাংকের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ কৃষক, কারিগর এবং সমাজের দুর্বল অংশকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং পরিষেবার আওতায় আনা। ভারত সরকার (৫০%), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (৩৫%) এবং ত্রিপুরা সরকার (১৫%)—এই শেয়ার কাঠামো ব্যাংকটিকে একদিকে সরকারি সহায়তা এবং অন্যদিকে বাণিজ্যিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করেছে।ব্যাংকের আর্থিক যাত্রায় ২০০১-০২ অর্থবর্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যখন প্রথমবারের মতো ২১.৪৯ লক্ষ টাকা নেট মুনাফা অর্জন করে। পরবর্তীতে ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে ₹১৩৯.৪০ কোটি টাকার পুঞ্জীভূত লোকসান সম্পূর্ণভাবে কাটিয়ে ওঠে এবং সেই ধারা এখনও বজায় রয়েছে।চেয়ারম্যান সত্যেন্দ্র সিং জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষটি ব্যাংকের জন্য “সার্বিক শক্তির বছর” হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই সময়ে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পেয়েছে, ঋণের ব্যয় কমেছে এবং স্থিতিশীল আমানতের ভিত্তিতে মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মূল পরিসংখ্যান (২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ):
মোট ব্যবসা: ₹১৫,৪২২ কোটি (২০২৪-২৫: ₹১৪,০৬৫ কোটি)
মোট আমানত: ₹১০,৮৯০ কোটি (২০২৪-২৫: ₹১০,০৬৬ কোটি)
মোট অগ্রিম: ₹৪,৫৩২ কোটি (২০২৪-২৫: ₹৪,০১৯ কোটি)
নেট মুনাফা: ₹১৮৪.৮৪ কোটি (২০২৪-২৫: ₹১০৪.৯০ কোটি)
গত অর্থবর্ষের তুলনায় নেট মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানান তিনি।এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে চেয়ারম্যান সত্যেন্দ্র সিং ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার অনুপ কুমার সাহা এবং চিফ ম্যানেজার শৈলেশ বিশ্বরঞ্জন।ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক।





