আগরতলা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : উন্নয়ন ও উন্নত নাগরিক পরিষেবার সঙ্গে সমাজের প্রতিটি মানুষকে যুক্ত করাই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (ডা.) মানিক সাহা। রবিবার প্রতাপগড়ে আগরতলা পুরনিগমের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্মিত দ্বিতল ওয়ার্ড অফিসের উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সরকার উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অন্তিম ব্যক্তি’ পর্যন্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার কাজ করছে।তিনি জানান, আগরতলা শহরে বিশুদ্ধ পানীয়জল, রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। অমৃত ২.০ প্রকল্পে ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে পানীয়জল পরিষেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য ৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও দুটি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অমৃত ২.০ প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ১৬ হাজার পরিবারকে বিশুদ্ধ পানীয়জলের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অমৃত ৩.০ প্রকল্পে আরও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। স্মার্ট সিটি মিশনের আওতায় ৫৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে আগরতলা শহরে ৬৫টি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।আগরতলা শহরের সৌন্দর্যায়নের ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরিত্যক্ত জলাশয় ও পুকুরগুলির সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি শহরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে। কাজের নিরিখেই অমৃত প্রকল্পে ত্রিপুরা পুরস্কৃত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগরতলার পাশাপাশি রাজ্যের ২১টি নগর পঞ্চায়েত ও পুর পরিষদ এলাকাতেও নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪,৩০০টি পরিবারকে ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৬,৭২৫টি স্বসহায়ক দল গঠন করে শহরাঞ্চলের মহিলাদের স্বনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আধুনিক নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে আগরতলা পুরনিগমসহ রাজ্যের শহরাঞ্চলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ওয়ার্ড অফিস নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এক্ষেত্রে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, মানুষের সঙ্গে পুরনিগমের সংযোগ আরও দৃঢ় করতে এবং বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা সহজে পৌঁছে দিতে ওয়ার্ড অফিসগুলিকে আধুনিকভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জোনের চেয়ারম্যান অভিজিৎ মল্লিক এবং পুরনিগমের কমিশনার সাজুবাহিদ এ। উল্লেখ্য, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্মিত এই ওয়ার্ড অফিসটি গড়ে তুলতে ব্যয় হয়েছে ৯৭ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা। উদ্বোধনের পর অতিথিরা ওয়ার্ড অফিসটি পরিদর্শন করেন।






