34 C
Agartala
Saturday, March 7, 2026

Buy now

spot_img

ফিসারি অফিসারপদের অফার বণ্টন করে মুখ্যমন্ত্রী ভালো কিছু করার লক্ষ্য নিয়েআধিকারিকগণ দপ্তরগুলিতে কাজ করলে নতুন ত্রিপুরা গড়া অসম্ভব নয়

আগরতলা : রাজ্যবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে চাকরি প্রদান করছে।স্বচ্ছতার সঙ্গে বেকার যুবক যুবতীদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে বলেই সবার সামনে চাকরির অফার বণ্টন করা হচ্ছে। এতে কোনও লুকোচুরির বিষয় নেই। আজ প্রজ্ঞাভবনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৫২ জনের হাতে টি.এফ.এস, গ্রেড-ওয়ান ফিসারি অফিসার পদের অফার প্রদান করে মুখ্যমন্ত্রী(ডা) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি কাজের লক্ষই হচ্ছে জনকল্যাণ। জনকল্যাণে চাকরি প্রদান থেকে শুরু করে একের পর এক নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যোগ্য বাক্তিদেরই বর্তমানে চাকরি হচ্ছে। পড়াশোনার মধ্য দিয়ে যারা নিজেদের যোগ্য বলে প্রমাণ করছেন তারাই বিভিন্ন পদে চাকরি পাচ্ছেন। চাকরির জন্য এখন কোনও সুপারিশ নিয়ে আসতে হয় না।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে অতীতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ সহ দুর্বল যোগাযোগ বাবস্থার কারণে চাকরি করা কষ্টকর ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি পাল্টেছে। রাজ্যে এখন এক সুন্দর শান্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজাগুলির উন্নয়নের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ায় রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। এর সুফল ভোগ করছেন রাজ্যবাসী। সেক্ষেত্রে দূরবর্তী স্থানে চাকরি করা এখন আর কষ্টকর নয়। বিভিন্ন পদে যারা চাকরি পাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিজেদের দক্ষতা সব সময় বাড়াতে হবে। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে। জীবন শুধু নিজের জন্য নয়, জীবন অন্যের জন্যও এই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। যারা বিভিন্ন সাহাযোর প্রত্যাশা নিয়ে সরকারি দপ্তরগুলিতে আসেন তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে হবে। ভালো কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে আধিকারিকগণ দপ্তরগুলিতে কাজ করলে নতুন ত্রিপুরা গড়া অসম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনের উপরও রাজ্য সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। এখন পর্যন্ত রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদে ২০ হাজার ২৪৮ জনকে চাকরি দিয়েছে মুখামন্ত্রী বলেন, মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। যথাযথ কর্মদক্ষতা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরাকে প্রথম স্থান দখল করতে হবে। রাজ্য সরকার রাজ্যকে মৎস্যচাষে স্বনির্ভর করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। সেই লক্ষো পরিতাক্ত জলাশয়গুলি পুনরুদ্ধার, নতুন জলাশয় খনন, বিজ্ঞানভিত্তিক মৎসচাষের জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জনজাতি এলাকায় মৎস্যচাষের উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ২৩টি জনজাতি এলাকার জন্য ২২ কোটি টাকা অর্থ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মৎসা যোজনায় গত ৫ বছরে রাজ্যে ২৬ হাজারের উপর মৎস্যজীবী উপকৃত হয়েছেন। মুখামন্ত্রী মৎস্য বিকাশ যোজনায় ১৪ হাজারের উপর মৎস্যজীবী নানাভাবে সহায়তা পেয়েছেন। ১ লক্ষ ১০ হাজারের উপর মৎস্যজীবীকে বীমার আওতায় আনা হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রন্ত ৩০ হাজার মৎস্যজীবীকে ১১ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা সহায়তা করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির ভাষণে মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, রাজ্যে বর্তমানে ৮৯ হাজার মেট্রিকটন মাছ উৎপাদন হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে ৪ শতাংশ মাছের উৎপাদন বেড়েছে। মৎস্য দপ্তর রাজ্যকে মাছ উৎপাদনে স্বনির্ভর করতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, পরিশ্রম ও সততাই হলো উন্নতির চাবিকাঠি। জনপ্রতিনিধি, আধিকারিক ও মৎস্যচাষিদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে এর সুফল আসতে বাধ্য। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৎস্য দপ্তরের সচিব দীপা ডি, নায়ার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা সন্তোষ দাস।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles