আগরতলা : পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর অঞ্চলের যৌথ আঞ্চলিক রাজ ভাষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় হাপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের ইন্ডোর হলে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সুচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সাথে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় গৃহ রাজ্য মন্ত্রী বন্দী সঞ্জয় কুমার, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা, সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, সাংসদ কৃতি সিং দেববর্মণ সহ অন্যান্যরা। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন যখন সমগ্র দেশ মোগলদের গোলামি ছিল, সেই সময় কেউই মোগলদের ক্ষমতার সামনে দাঁড়ানোর সাহস কেউই দেখায় নি। সেই সময় ১৬ বছর বয়সী শিবাজি একটি মন্দিরে প্রতিজ্ঞা করেছিল দেশকে স্বাধীন করার। পরবর্তী সময় সময় ছত্রপতি নামে শিবাজি মহারাজের রাজ্যাভিষেক হয়েছিল। স্বরাজ মানে নিজের ভাষা, নিজের ধর্ম ও স্বাধীন। এই তিনটি মিলে স্বরাজ হয়। সংবিধান প্রনেতারা এই জায়গা থেকে প্রেরনা নিয়ে হিন্দিকে রাজ ভাষা বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বহু বছর ধরে হিন্দি ভাষা নিয়ে অপপ্রচার করা হয়েছে। হিন্দি ভাষা ও স্থানীয় ভাষা একই মায়ের দুই বোন। হিন্দি ভাষা মজবুত হলে সকল ভাষা মজবুত হবে। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বর্তমানে সমগ্র দেশ নিজের ভাষাকে আপন করার সংকল্প নিয়ে একধাপ এগিয়ে শক্তি সঞ্চয় করেছে। এমনও অপপ্রচার করা হয়েছে নিজের ভাষাকে অগ্রাধিকার দিলে বিকাশ থেকে দূর হয়ে যাবে। বিশ্বের মধ্যে বহু দেশ রয়েছে যারা নিজের ভাষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের মধ্যে বিকশিত দেশের স্থান দখল করেছে। কোন ভাষা নিজের দেশকে বিকাশ থেকে দূরে রাখতে পারে না। যে সকল দেশ নিজের ভাষার ব্যবহার করে সেই দেশের বিকাশ সবচেয়ে বেশি হয়। কোন শিশুকে কোন বিষয় সহজ ভাবে বুঝানোর একমাত্র মাধ্যম তার মাতৃ ভাষা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরও বলেন ত্রিপুরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলির মধ্যে একটি। ২০১৪ সালের পূর্বে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলিতে অনেক হত্যা কাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একের পর এক ২১ টি মৌ স্বাক্ষর করেছেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শান্তির জন্য। ফলে প্রায় ১১ হাজার লোক স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। যার কারনে বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিকাশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বর্তমানে পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়ন হয়েছে। বিনিয়োগকারিরা আসছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলিতে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিবাদের জায়গায় বিকাশের ভূমি বানানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছেন নরেন্দ্র মোদী। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলিতে দুই শতাধিক ভাষা রয়েছে। সংস্কৃতিতে ভরপুর উত্তর-পূর্বাঞ্চল। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ন্যায় সমৃদ্ধ সংস্কৃতি সমগ্র বিশ্বের মধ্যে আর কোথাও নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করেন অমিত শাহ। সমৃদ্ধ সংস্কৃতির কারনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভাসাও সমৃদ্ধ। ত্রিপুরা রাজ্যে বাংলা, ককবরক ও হিন্দি ভাষা ভালো ভাবে বলা হয়। ত্রিপুরা রাজ্যে ভাষাকে নিয়ে কোন সময় বিবাদ হয় নি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এমন বহু মহান ব্যক্তি রয়েছেন যারা হিন্দি ভাষার মাধ্যমে দেশের মধ্যে নিজের ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাম উজ্জল করেছেন। ভারতবর্ষকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে রাজ ভাষাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ত্রিপুরা রাজ্যে ককবরক ভাষায় রোমান স্ক্রিপ্টের দাবিতে চলা আন্দোলন নিয়ে বলতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সকল রাজ্য নাগরিক লিপিকে মেনে নিয়েছে। তাই তিনি ত্রিপুরা রাজ্যেও যেন নাগরিক লিপি মেনে নেওয়া হয় তার আবেদন জানান। নিজেদের পরিচয়ের জন্য নিজেদের দেশের লিপিকে মেনে নেওয়া প্রয়োজন। লিপি ও ভাষা বিবাদের কারন হওয়া ঠিক নয়। লিপি ও ভাষা বিকাশের জন্য হওয়া ভালো। অমিত শাহ এইদিন সকলের প্রতি আহ্বান জানান নিজের সন্তানকে মাতৃ ভাষা শিখানোর জন্য। এইদিনের পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর অঞ্চলের যৌথ আঞ্চলিক রাজ ভাষা সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে।





