আগরতলা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজ্যে চা শিল্পের প্রসারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। রাজ্যের মধ্যে এই প্রথম চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের ফলে চা শিল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি চা শিল্পের সাথে যুক্ত রাজ্যের প্রায় ২ হাজার ৮০০টি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে। বৃহস্পতিবার গোর্খাবস্তিস্থিত নেহরু কমপ্লেক্সে চা নিলাম কেন্দ্রের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, রাজ্যে চা শিল্পকে দ্রুত জাতীয় স্তরে ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে ২০২৩ সালেই রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল। তার ফলস্বরূপ আজ রাজ্যে চালু হলো রাজ্যের প্রথম চা নিলাম কেন্দ্র। উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী চা নিলাম কেন্দ্রের টি টেস্টিং শাখা, টি গ্যালারি সহ অন্যান্য শাখাগুলি ঘুরে দেখেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে চা নিলাম কর্মসূচিরও সূচনা করেন।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, মানুষের সেবা ও কল্যাণে কাজ করার জন্য স্বপ্ন দেখতে হবে। এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে সদিচ্ছায় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। রাজ্য সরকার মানুষের সেবায় সেই লক্ষ্য নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করে চলেছে বলেই আজ রাজ্যে নতুন নতুন সম্ভাবনাময় পথের উন্মোচন হচ্ছে। বর্তমানে সেই পথগুলির জনাই একজন শিক্ষিত বেকার যুবক থেকে শুরু করে একজন কৃষকেরও আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ত্রিপুরার মাটি ও জলবায়ু চা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তা সত্বেও অতীতে চা শিল্পের প্রসারে বাস্তবসম্মত কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এই নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের ফলে রাজ্যে চা শিল্পের প্রসার আরও দ্রুতগতিতে হবে।তিনি বলেন, রাজ্যে বর্তমানে ৫৪টি চা বাগানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি কেজি চা পাতা উৎপাদন হচ্ছে এবং ২৩টি কারখানাতে চা পাতা প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। চা উৎপাদনে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে বর্তমানে ত্রিপুরা দ্বিতীয়। মুখ্যমন্ত্রী ভাষণে চায়ের ব্র্যান্ডিং-এর নতুনত্ব সহ তার প্রচার ও প্রসারে আরও উদ্যোগ নেওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের চা কলকাতা ও গুয়াহাটিতে নিলাম হতো। তাতে রাজোর চা উৎপাদকদের ব্যয় বেড়ে যেত। আজ রাজ্যে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের ফলে রাজ্যের চা উৎপাদকদের দীর্ঘমেয়াদি এক সমস্যার সমাধান হলো। এই নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের ফলে ই-নিলামের ক্ষেত্রেও এক বিশাল পরিবর্তন আসবে। রাজ্যে এই চা নিলাম কেন্দ্রে এসে চা ক্রয়ে উৎসাহ বাড়াতে কলকাতা ও গুয়াহাটি থেকে আগত নিলামে অংশগ্রহণকারী ক্রেতাদের বিশেষ পরিবহণ ভূর্তকি দেওয়া হবে। এতে ক্রেতাদের ব্যয় সাশ্রয় হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই চা নিলাম কেন্দ্র চালু হওয়ার ফলে ক্ষুদ্র থেকে বড় উৎপাদনকারীদের মধ্যে সমন্বয় সাধন ঘটবে, যা চা শিল্পের প্রসারে নিত্য নতুন পথ খুলে দেবে।রাজ্য সরকারের লক্ষ্য আগরতলা চা নিলাম কেন্দ্রকে উত্তর পূর্ব ভারতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ চা নিলাম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং রাজ্যের চায়ের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে তোলা। রাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক স্তরে রাজ্যের চা রপ্তানি দ্বিগুণ করার এক সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য প্রত্যেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এক উন্নত আর্থসামাজিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এক নতুন ত্রিপুরা গড়া। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার আলবাসার হাসান সহ নিলামে অংশগ্রহণকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন।অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা বলেন, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর রাজ্যে শিল্প প্রসারে নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে চলেছে। সরকারের লক্ষ্য আরও বেশি করে শিক্ষিত যুবাদের শিল্প স্থাপনের সাথে যুক্ত করা। এক্ষেত্রে চা শিল্প হলো অন্যতম। আগরতলা চা নিলাম কেন্দ্র আগামীতে রাজ্যের নিজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান সমীর রঞ্জন ঘোষ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিয়ে। বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতের টি বোর্ডের উত্তর পূর্বাঞ্চলের আঞ্চলিক কার্যনির্বাহী অধিকর্তা অরুণিতা পাউখন যাদব এবং শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা ড. দীপক কুমার। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের এম ডি রাজেশ কুমার দাস।






