আগরতলা, ১৩ জুন২০২৬ : কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের পাশাপাশি আগামী ১৫ জুন ‘যাত্রী সুবিধা দিবস’ পালন করবে আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম এয়ারপোর্ট । এ উপলক্ষে বিমানযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন বিশেষ পরিষেবা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিমানবন্দরের অধিকর্তা কিশান মোহন নেহেরা জানান, ওই দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিমান চলাচলের সময় যাত্রীদের তিলক পরিয়ে স্বাগত জানানো হবে। প্রবীণ ও বয়স্ক যাত্রীদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করা হবে। এছাড়াও স্থানীয় লোকনৃত্য, লোকসঙ্গীত পরিবেশনা এবং রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।তিনি বলেন, আগরতলার এমবিবি বিমানবন্দর বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে পরিণত হয়েছে। যাত্রী পরিষেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একাধিক আধুনিক সুবিধা চালু করা হয়েছে। যাত্রীদের দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ডিজিযাত্রা অ্যাপ। পাশাপাশি ব্যাগেজ দ্রুত সরবরাহের জন্য চারটি কনভেয়ার বেল্ট স্থাপন করা হয়েছে।এছাড়া বিমানবন্দরে সুলভ মূল্যে পানীয় জল ও খাবারের ব্যবস্থা, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই, শিশু পরিচর্যা কক্ষ, বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং মোবাইল চার্জিং পয়েন্টসহ বিভিন্ন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।পরিসংখ্যান তুলে ধরে কিশান মোহন নেহরা জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যেখানে বছরে যাত্রী চলাচলের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮.৯ লক্ষ, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় ১৫ লক্ষে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিমান চলাচলের সংখ্যা ৭ হাজার থেকে বেড়ে ১২ হাজারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৩৪টি বিমান আগরতলা বিমানবন্দরে ওঠানামা করছে।তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বিমানবন্দরে নতুন কার্গো পরিষেবা চালু হয়েছে। বর্তমানে আগরতলার সঙ্গে কলকাতা, গুয়াহাটি, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, ইম্ফল, আহমেদাবাদ, হায়দরাবাদ ও চেন্নাইয়ের সরাসরি বিমান যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স আগরতলা-জয়পুর রুটে বিমান পরিষেবা চালু করেছে। অদূর ভবিষ্যতে আগরতলা ও মুম্বাইয়ের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো সমৃদ্ধ এমবিবি বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক উড়ান পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিমানবন্দরের অধিকর্তা।অন্যদিকে, কৈলাসহর বিমানবন্দর পুনরায় চালুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৌশলগতভাবে বিমানবন্দরটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করতে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে ত্রিপুরা সরকারের কাছে ২০৫ একর জমি চাওয়া হয়েছে।এই সাংবাদিক সম্মেলনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।





