25.7 C
Agartala
Thursday, June 11, 2026

Buy now

spot_img

সাংবাদিক সম্মেলনে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব ডি-রেগুলেশন: ৫১টি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন

আগরতলা, ১৪ মে, ২০২৬ : ত্রিপুরা সারা দেশে প্রথম রাজ্য হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল কমপ্লায়েন্স রিডাকশন এন্ড ডি-রেগুলেশন ইনিশিয়েটিভের দ্বিতীয় পর্যায়ের অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলির কাজ সম্পূর্ণ করেছে। এই সাফল্য ত্রিপুরার জন্য ঐতিহাসিক মাইলস্টোন। দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরা ডি-রেগুলেশন ফেজ-১ (২৩টি প্রায়োরিটি এরিয়া) এবং ফেজ-২ (২৮টি প্রায়োরিটি এরিয়া)-এর অধীনে থাকা মোট ৫১টি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার গৌরব অর্জন করেছে। রেগুলেটরি রিফমর্স, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস এবং টেকনোলজি ড্রিভেন গভর্নেন্স-এর ক্ষেত্রে ত্রিপুরা ফ্রন্ট রানার হিসেবে তার স্থান ধরে রেখেছে। আজ সচিবালয়ের ২নং কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে এই সংবাদ জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা দীপক কুমার, নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মেঘা জৈন এবং শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা দেবাশীষ দাস প্রমুখ।শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে জানান, এই কর্মসূচিতে ত্রিপুরা জাতীয় স্তরে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ফেজ-১-এর ২৩টি এবং ফেজ-২-এর ২৮টি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র সম্পন্ন করে ত্রিপুরা আজ দেশের মধ্যে সংস্কারমুখী প্রশাসন ও প্রযুক্তি-চালিত সুশাসনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য স্থানে রয়েছে। সচিব বলেন, এত কম সময়ে এতগুলি দপ্তরের সংস্কার কর্মসূচি সারা দেশে প্রশংসিত হচ্ছে। এই সাফল্যের ফলে ভারত সরকারের ডি.পি.আই.আই.টি.-এর ‘বিজনেস রিফর্ম অ্যাকশন প্ল্যান’ ২০২৪-এ ত্রিপুরা ‘টপ অ্যাচিভার’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। রাজ্যে সংস্কারের অনুমোদনের হার ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪ শতাংশ হয়েছে।এই সংস্কারের মাধ্যমে ভূমি, শ্রম এবং পরিবেশ সংক্রান্ত জটিলতা অনেক কমানো হয়েছে। ভূমি সংস্কারের অধীনে জমির ব্যবহারের বিভাগ ১০০টিরও বেশি থেকে কমিয়ে মাত্র ১০টিতে আনা হয়েছে এবং জি.আই.এস.-ভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ল্যান্ড ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। শ্রম আইনের সংস্কারের ফলে এখন মহিলারা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা সহ নাইট শিফটে কাজ করতে পারবেন। শ্রম আইনের ক্ষেত্রেও সংস্কার আনা হয়েছে। শিল্পের প্রসারে ব্যবসায়ীদের স্ব-ঘোষণার মাধ্যমে কাজ শুরু করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তিন বছর পর্যন্ত কোনও ধরনের পরিদর্শন করা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।সাংবাদিক সম্মেলনে সচিব কিরণ গিত্যে আরও বলেন, সরকারের ইতিবাচক মনোভাব এবং শিল্প অনুরাগী উদ্যোগের কারণে রাজ্যের জি.ডি.পি. এখন অত্যন্ত ভালো অবস্থানে রয়েছে। গত কয়েক বছরে রাজ্যে ৩৯৪টি মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ৩৫.১৪০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বছরও বিনিয়োগের পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে ৫,৩৫২ কোটি টাকা বিনিয়োগে ৯৪টি প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে, যা স্বাস্থ্য, পর্যটন এবং লজিস্টিকস খাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে।সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমির প্রয়োজনীয়তা যুক্তিসঙ্গত করা হয়েছে। পর্যটন, শিক্ষা, বাণিজ্য ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরলীকরণ আনা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ই-গ্যাজেট’ সিস্টেম এবং সরকারি পরিষেবা সময়মতো প্রদান করতে ‘অটো-আপিল’ মেকানিজম চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সংস্কারের প্রভাব মূল্যায়নের জন্য আই.আই.এম. কলকাতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের এই নিরলস প্রয়াস ভবিষ্যতে ত্রিপুরাকে বিনিয়োগকারীদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং ভারতের একটি মডেল রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles