25.4 C
Agartala
Saturday, March 7, 2026

Buy now

spot_img

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পথ কুকুর ও ঘুরে বেড়ানো প্রাণী নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ

আগরতলা : সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসরণ করে রাজ্য সরকার সারা রাজ্যে পথ কুকুর ও রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো প্রাণীদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় একাধিক বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার।তিনি জানান, অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল রুল ২০২৩ অনুযায়ী পথ কুকুরদের নির্বীজকরণ ও টিকাকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংস্থা ও পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল সেন্টার এবং প্রাণী আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সহযোগিতায়।সচিব জানান, আগরতলা মিউনিসিপল কর্পোরেশনের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই হাঁপানিয়াতে একটি অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং আর কে নগরে একটি প্রাণী আশ্রয় কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য পুরসভাগুলিতেও প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর ও বিভিন্ন প্রাণী কল্যাণ সংস্থার সহায়তায় অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশনসহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথ কুকুর নিয়ন্ত্রণে নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড, পূর্ত দপ্তর, পরিবহন দপ্তর, পৌর সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় সড়কগুলিতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।চিহ্নিত ঘুরে বেড়ানো প্রাণীদের নির্ধারিত আশ্রয় কেন্দ্র ও গোশালায় স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেখানে খাদ্য, পানীয় জল ও পশু চিকিৎসা পরিষেবা উপলব্ধ রয়েছে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একাধিক হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা ড. নিরাজ কুমার চঞ্চল জানান, রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি রেবিস ভ্যাকসিন ও ইমিউনোগ্লোবুলিন মজুত রয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পথ কুকুর ও ঘুরে বেড়ানো প্রাণীদের আচরণ, তাদের দ্বারা বাহিত রোগ, প্রতিষেধক এবং প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।তিনি আরও জানান, পথ কুকুর ও রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো প্রাণীদের ব্যবস্থাপনায় রাজ্যব্যাপী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে দেবীপুর, মোহনপুর ও ধর্মনগরে মোট তিনটি গোশালা রয়েছে। আগামী দিনে পাঁচটি জেলায় এনজিও-দের মাধ্যমে আরও পাঁচটি নতুন গোশালা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।গরু পাচার প্রতিরোধে বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় দুই হাজার গরু উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা বিমল কৃষ্ণ দাস।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles