30.5 C
Agartala
Saturday, October 31, 2026

Buy now

spot_img

রাজ্যে ক্রিকেটের পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজ্যে ক্রিকেটের পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সেকেরকোটে অত্যাধুনিক ক্রিকেট অ্যাকাডেমি নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই ৩০ একর জমি করা হয়েছে। আগামী দিনে এই অ্যাকাডেমিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের খেলোয়াড়রাও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বহু প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজও প্রায় শেষের পথে। খুব শীঘ্রই সেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হবে। রবিবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির ভাষনে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী (ডাঃ) মানিক সাহা।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অন্যান্য খেলাধুলার পাশাপাশি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিভাবকরাও তাঁদের সন্তানদের ক্রিকেটের প্রতি উৎসাহিত করছেন। টিসিএ ও বিসিসিআই-এর যৌথ প্রচেষ্টায় ত্রিপুরার খেলোয়াড়রা জাতীয় স্তরে নিজেদের প্রতিভার রাখছেন। রাজ্যের ক্রিকেটের উন্নয়নে টিসিএ-কে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। ক্রিকেট পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেকেরকোটে প্রস্তাবিত ক্রিকেট অ্যাকাডেমি শুধু ত্রিপুরার নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খেলোয়াড়দের জন্যও প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়েছেন। খুব শীঘ্রই সেখানে বড় মাপের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। গ্রামীণ স্তরে ক্রিকেটের প্রসারে কৈলাশহর, বিলোনিয়া ও জিরানিয়ার মতো জায়গাতেও উন্নত প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড তৈরি করা হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।রাজ্যের ক্রিকেটারদের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০টি রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেলার অনন্য নজির গড়ায় মণি শংকর মুড়াসিংকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান। ক্রিকেটার শ্রীদাম পালের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স অতিথি খেলোয়াড় হনুমা বিহারী ও বিজয় শঙ্করের অবদানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিসিসিআই আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৯ প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরা মহিলা ক্রিকেট দলের সাফল্যকে রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয় বলে অভিহিত করেন।যুবসমাজকে নেশার কবল থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুস্থ দেহে সুস্থ মন বাস করে। খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা ও দলগত মানসিকতা গড়ে তোলে। সুনীল গাভাস্কার, শচীন টেন্ডুলকার, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও বিরাট কোহলির মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের আদর্শ অনুসরণ কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের আহ্বান জানান। ক্রিকেট ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একসূত্রে বাঁধে বলেও মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী চিহ্ন রায় বলেন, গ্রামীণ এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনতে ক্রীড়া দপ্তর ‘ট্যালেন্ট সার্চ স্কিম’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে মহকুমা, জেলা ও রাজ্যস্তরে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে গ্রামীণ এলাকার খেলোয়াড়দের সাফল্য এই উদ্যোগের সুফল প্রমাণ করছে। তিনি খেলোয়াড় বাছাই, কোচিং ও মহকুমা স্তরের প্রতিযোগিতার গুরুত্বর কথা তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ বর্ষের ওয়ানডে টুর্নামেন্টের প্লেট গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ত্রিপুরার অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দল এবং দলের সাপোর্ট স্টাফদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উভয় দলের হাতে ১০ লক্ষ টাকা করে চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও ২০২৬-২৭ বর্ষের দলীপ ট্রফিতে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য ত্রিপুরার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার অভিজিৎ সরকারকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। টিসিএ পরিচালিত বিভিন্ন ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সফল দল, ক্রিকেটার ও প্রশিক্ষকদেরও সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিসিএ-র সম্পাদক সুব্রত দে। উপস্থিত ছিলেন টিসিএ-র ভাইস প্রেসিডেন্ট উপানন্দ দেববর্মা, যুগ্ম সম্পাদক জয়ন্ত দে-সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সভাপতি তপন লোধ

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles