আগরতলা, ১৪ জুলাই, ২০২৬ : পথ দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পূর্বতন ‘গুড সামারিটান’ নীতিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর রূপ দিয়ে ‘পিএম রাহাত’ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিলে উদ্ধারকারীকে পরিবহন দপ্তরের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিক ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রজ্ঞাভবনে যানবাহন আইন এবং সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির বিষয়ে এক কর্মশালার উদ্বোধন করে পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী একথা বলেন।সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এবং মোটরযান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে ‘দি মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্টস এন্ড এসোসিয়েটেড রুলস’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পরিবহন দপ্তর, সিপার্ড এবং এ.ডি. নগরের স্কুল অব লজিস্টিকস কমিউনিকেশন অ্যান্ড ওয়াটারওয়েজের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় পরিবহন দপ্তর ও আরক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের আইজিপি মঞ্চাক ইঞ্জার, পরিবহন দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত চৌধুরী, যুগ্ম সচিব মৈত্রী দেবনাথ সহ অন্যান্য আধিকারিকগণ। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় মোটরযান আইন, সড়ক নিরাপত্তা, ই-চালান ব্যবস্থা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগের কার্যকর পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।কর্মশালায় পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, পিএম রাহাত প্রকল্পে উদ্ধারকারী ব্যক্তিকে কোনো ধরনের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ বা আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে না। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যে নথিভুক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৪ লক্ষ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮ লক্ষে পৌঁছালেও সড়ক দুর্ঘটনার হার আগের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। দুর্ঘটনাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কে ১৬টি অত্যাধুনিক লাইফ-সেভিং অ্যাম্বুলেন্স এবং আধুনিক ট্রাফিক ইন্টারসেপ্টর যান মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘পিএম রাহাত’ প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে দিতে জেলা পর্যায়ে বিশেষ সচেতনতা শিবির আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা শাসক, পুলিশ প্রশাসন এবং পঞ্চায়েতিরাজ প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ব্যাপক জনসচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য পুলিশের আইজিপি মঞ্চাক ইঞ্জার জানান, গত তিন বছরে রাজ্যে প্রায় ৭০ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং কয়েক হাজার লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তিনি জানান, ২০২৩ সালে ২,৭৬৩টি লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হয়। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩,৯৯০-এ পৌঁছায় এবং একই বছরে প্রায় ২১ হাজার লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। পরবর্তী বছরে ২৫ হাজার লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত এবং ১২ হাজার লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১১ হাজারেরও বেশি লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত এবং ৩ হাজারের বেশি লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।আইজিপি আরও বলেন, গুরুতর সড়ক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি যানবাহনের নিবন্ধন ও লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করার বিষয়েও অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য এই কাজের সাথে যুক্ত আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় আইনগত বিধান ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কর্মশালায় বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিগণ অংশ নেন এবং বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন পরিবহন দপ্তরের যুগ্ম সচিব মৈত্রী দেবনাথ।






