আগরতলা : রাজ্য সরকারের উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এ বছরও আয়োজন করা হচ্ছে ত্রিপুরা শিল্প ও বাণিজ্য মেলা (টিআইসিএফ)। ত্রিপুরা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর এবং ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৩৬তম ত্রিপুরা শিল্প ও বাণিজ্য মেলা, যা শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এবং চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে হাপানিয়ার আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে।মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা নাগাদ, হাপানিয়ার আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনী মাঠে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক (ডঃ) মানিক সাহা, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, ত্রিপুরা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন শ্রী রাম প্রসাদ পাল, মাননীয় উপাধ্যক্ষ, ত্রিপুরা বিধানসভা; শ্রীমতি সান্ত্বনা চাকমা, মাননীয় মন্ত্রী, শিল্প ও বাণিজ্য; শ্রী সুশান্ত চৌধুরী, মাননীয় মন্ত্রী, পর্যটন; শ্রী বিকাশ দেববর্মা, মাননীয় মন্ত্রী, জনজাতি কল্যাণ; শ্রী বৃষকেতু দেববর্মা, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, শিল্প ও বাণিজ্য; শ্রী দীপক মজুমদার, মাননীয় মেয়র, আগরতলা পৌর কর্পোরেশন; শ্রী নবদল বণিক, মাননীয় চেয়ারম্যান, টিআইডিসি লিমিটেড; শ্রীমতি মিনা রানী সরকার, মাননীয় বিধায়ক সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।মেলা প্রাঙ্গণের মোট নির্মিত এলাকা প্রায় ৬০,০০০ বর্গফুট, যেখানে স্টল, ফুড কোর্ট, ইনডোর প্রদর্শনী হল এবং অন্যান্য চত্বর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এবছর মোট ৫৮০টি স্টল থাকছে। ত্রিপুরার পাশাপাশি আসাম, মণিপুর, মিজোরাম, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট ও পাঞ্জাব থেকে আগত শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা তাঁদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের জন্য অংশগ্রহণ করবেন।প্রদর্শকদের মধ্যে থাকছেন বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, বেসরকারি কোম্পানি, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও কারিগর, পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রদর্শকরা। প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—হস্তচালিত তাঁতের পণ্য, হস্তশিল্প, পোশাক, গহনা, আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, গৃহস্থালীর সামগ্রী, কৃষি ও উদ্যানজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ আরও নানা সামগ্রী।
স্থানীয় কারিগর ও সুশীল সমাজকে সহায়তার লক্ষ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি) ও এনজিওদের জন্য কিছু স্টল বিনামূল্যে বরাদ্দ করা হয়েছে।
ত্রিপুরা রাজ্যের সংস্কারমূলক উদ্যোগ জাতীয় স্তরে প্রশংসা অর্জন করেছে। ভারত সরকার কর্তৃক স্বীকৃতভাবে, কমপ্লায়েন্স হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়ে চিহ্নিত ২৩টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র বাস্তবায়নকারী প্রথম রাজ্য হলো ত্রিপুরা। এই সাফল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবছরের মেলার মূল ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে—“ত্রিপুরা: উত্তর-পূর্বের উদীয়মান শিল্প কেন্দ্র”।মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে পিএম বিশ্বকর্মা প্যাভিলিয়ন, যেখানে রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের উদ্ভাবনী সামগ্রী প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও থাকবে একটি থিম প্যাভিলিয়ন, যেখানে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতি, উদ্যোগ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হবে।স্থানীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগগুলোর (এমএসএমই) বাজার সংযোগ বাড়াতে আয়োজন করা হচ্ছে রিভার্স বায়ার-সেলার মিট (আরবিএসএম)। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমএসএমই উদ্যোক্তারা বড় ক্রেতা, শিল্প প্রতিনিধি ও সংগ্রহকারী সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পাবেন।দর্শকদের বিনোদনের জন্য শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহযোগিতায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাজ্য ও রাজ্যের বাইরের খ্যাতনামা শিল্পীরা পরিবেশন করবেন নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা তুলে ধরবে এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।খাদ্যরসিকদের জন্য থাকছে দেশীয়, উত্তর ভারতীয়, দক্ষিণ ভারতীয়সহ বিভিন্ন স্বাদের খাবারের সমাহার।বুধবার মহাকরণে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা।
