আগরতলা, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) এলাকার ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ হবে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গণনা শুরু হবে ৫ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে। সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ৮ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।সোমবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে সাংবাদিক সম্মেলনে আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের বিস্তারিত নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. পি. কে. চক্রবর্তী।
৪,৫৯৭টি আসনে ভোট, ভোটার প্রায় ৯.৬২ লক্ষ
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, এবারের নির্বাচনে ৫২টি আরডি ব্লকের অধীনে ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির ২,৬৩৪টি নির্বাচনী ক্ষেত্রে মোট ৪,৫৯৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। রাজ্যের ৫৮টি ব্লকের মধ্যে ৬টি ব্লকের অধীনে কোনও ভিলেজ কমিটি না থাকায় সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ৯,৬১,৯৭৭ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪,৮২,০৪১ জন, মহিলা ভোটার ৪,৭৯,৯৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন।ভোটগ্রহণের জন্য মোট ১,৫৫০টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধলাই জেলায় সর্বাধিক ২৯৯টি এবং উনকোটি জেলায় সর্বনিম্ন ৯২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৮ সেপ্টেম্বর। ৯ সেপ্টেম্বর হবে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ সময় ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা।২৮ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের পর প্রয়োজন হলে ৩ অক্টোবর পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৫ অক্টোবর ভোট গণনা শুরু হবে এবং গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ৮,৫০০ জন পোলিং পার্সোনেল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে ২৩১ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ৩৭৩ জন সেক্টর অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।রাজ্যের আটটি জেলার জেলা শাসক ও সমাহর্তাদের জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং ৫২টি আরডি ব্লকের বিডিওদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরও নিয়োগ করা হবে।এবারের ভিলেজ কমিটি নির্বাচন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা সবুজ ও হালকা নীল রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে।ভোটারদের পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক। EPIC-এর পাশাপাশি বিকল্প পরিচয়পত্রের মাধ্যমেও পরিচয় প্রমাণের সুযোগ রাখা হবে। প্রবীণ ও দিব্যাঙ্গ ভোটারদের জন্য ভোটকেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থাও থাকবে।নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে কার্যকর আদর্শ আচরণবিধি। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ভিলেজ কমিটি নির্বাচনী এলাকাগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) কার্যকর হয়েছে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের ক্ষেত্রে এই আচরণবিধি প্রযোজ্য হবে।রাজ্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে জেলা নির্বাচন আধিকারিক, রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। গত ২৭ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করে নির্বাচনী আচরণবিধি, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত পুলিশের মহানির্দেশক জি. এস. রাও জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদনক্রমে বিপুল সংখ্যক সিআরপিএফ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ও সংবেদনশীল এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক টিএসআর ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন থাকবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. পি. কে. চক্রবর্তী। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন।
