Site icon northeast8.com

হর ঘর তিরঙ্গা র‍্যালির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস

আগরতলা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি বর্তমানে দেশে একটা বৃহৎ জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২২ সালে আজাদি কা অমৃত মহোৎসবের অঙ্গ হিসেবে দেশব্যাপী হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এই কর্মসূচি দেশবাসীর মধ্যে জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম এবং জাতীয় গৌরবের এক গভীর অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। দেশ ভক্তির ভাবনাকে সুদৃঢ় করতে সারা দেশের সঙ্গে আমাদের রাজ্যেও হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বুধবার  উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণ থেকে হর ঘর তিরঙ্গা র‍্যালির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন। র‍্যালিটি উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান পথ পরিক্রমা করে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে এসে শেষ হয়। সেখানে তিরঙ্গা প্রদর্শনী ও তিরঙ্গা কনসার্ট এর আয়োজন করা হয়।

তিরঙ্গা র‍্যালির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় পতাকা শুধুমাত্র একটি কাপড়ের টুকরো বা রঙ এর সমন্বয় নয়। তিরঙ্গা আমাদের স্বাধীনতা, শক্তি, শান্তি ও অগ্রগতির প্রতীক। তিরঙ্গার গেরুয়া রঙ ত্যাগের প্রতীক, সাদা রঙ সত্য এবং সবুজ রঙ উন্নতির প্রতীক। জাতীয় পতাকার কেন্দ্রে থাকা অশোক চক্র আমাদের সর্বদা এগিয়ে চলার বার্তা দেয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিবর্ণ রঞ্জিত জাতীয় পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস। আমাদের প্রত্যেক নাগরিকের কর্তবা জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুন্ন রাখা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবছর হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচির পঞ্চম সংস্করণ ৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তিরঙ্গা র‍্যালি, তিরঙ্গা প্রদর্শনী, তিরঙ্গা কনসার্ট, জেলা, ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে বাইক ও সাইকেল র‍্যালি, ত্রিবর্ণ রঞ্জিত আলোকসজ্জা, রঙ্গোলী প্রতিযোগিতা, তিরঙ্গার সঙ্গে সেলফি ইত্যাদি।ভারতের রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এবারের এই কর্মসূচিকে উৎসর্গ করা হয়েছে। রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষকে এই জাতীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ, অর্থ দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়, পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা, সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, যুববিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়, মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক মিনারাণী সরকার, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে প্রমুখ। র‍্যালিতে মুখ্যমন্ত্রী, অন্যান্য অতিথিগণ এবং ছাত্রছাত্রী সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালির শেষে রবীন্দ্রভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিরঙ্গা প্রদর্শনী মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিগন ঘুরে দেখেন এবং তিরঙ্গা কনসার্ট অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

Exit mobile version