22.5 C
Agartala
Monday, March 16, 2026

Buy now

spot_img

মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রকল্প-এর উদ্বোধন রাজ্য সরকার চেষ্টা করছে উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু অংশের নারীদের আত্মনির্ভর করে তুলতে মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা : ধর্ম নয়, ভালো কাজের মধা দিয়ে একজন মানুষের পরিচয় গড়ে উঠে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু অংশের মানুষের জন্য শিক্ষার মান উন্নয়ন সহ বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের মধ্য দিয়ে তাদের আর্থ-সামাজিকভাবে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। যে কোনও ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন শিক্ষার প্রসার ছাড়া সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম লক্ষ্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে শিক্ষা সহ সামগ্রিক উন্নয়ন ঘাঁটিয়ে সবকা সাথ সবকা বিকাশের লক্ষাকে বাস্তবরূপ দেওয়া। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে মানুষকে মুক্ত রেখে উন্নয়নের মাধ্যমে এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। উন্নয়নের স্বার্থে প্রতিটি ধর্মের মানুষের মধ্যে ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে হবে। আজ প্রজ্ঞাভবনে সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রকল্প এবং ঋণ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বোতাম টিপে ‘মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রকল্প’ ২০২৫-এর উদ্বোধন করেন। এছাড়া ধর্মীয় সংখ্যালঘু অংশের পরিবারগুলিরম ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা এবং বিভিন্ন স্বনির্ভর উদ্যোগের জন্য ঋণ প্রকল্পে ১১ জনের হাতে ১৬ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৈচিত্রের মাঝে ঐক্যই আমাদের শক্তি। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার সুনাম রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ভোকাল ফর লোকাল কর্মসূচিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাগুলিকেও যুক্ত করা এবং বিভিন্ন সরকারি সহায়তার মাধ্যমে তাদের জনির্ভর করা। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক চেষ্টায় ও দূরদর্শিতার জনাই দেশ আজ সুরক্ষিত। কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী জনবিকাশ কার্যক্রম সহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি সংখ্যালঘু অধুষিত এলাকায় তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। রাজ্য সরকারও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে শিক্ষা সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নানা প্রকল্প গ্রহণ করে উন্নয়নমূলক কাজ করছে। রাজা সরকার চেষ্টা করছে উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু অংশের নারীদের আত্মনির্ভর করে তুলতে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘু অংশের মানুষের দ্রুত অগ্রগতির লক্ষ্যে তাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মনোভাব নিয়ে চলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের সংখ্যালঘু নারীদের কল্যাণে এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক অধিকার অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। মুখামন্ত্রী বলেন, ঐকাই উন্নয়নের চালিকা শক্তি।অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, রাজা সরকারের মূল লক্ষ্য সংখ্যালঘুদের মধ্যে আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের মানুষদের আত্মনির্ভর করে তোলা। তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতেই মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমিক পর্যায়ে রাজ্যে ১৫০০টি ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিবার উপকৃত হবে। রাজা সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু অংশের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার মান উন্নয়নে রাজোর বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন হোস্টেল সহ নানা বৃত্তিমূলক সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়া সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন, নিপুরা মাইনোরিটি কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কর্পেরেশনের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন, ত্রিপুরা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবম্বর আলি, নিপুরা রাজ্য হজ কমিটির চেয়ারম্যান শাহআলম ও প্রাক্তন মন্ত্রী বিল্লাল মিঞা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব নির্মল অধিকারী। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের উপ-অধিকর্তা কবিতা দেববর্মা।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles