Site icon northeast8.com

ভিলেজ কমিটি নির্বাচন ঘিরে দিল্লিতে বিজেপি-তিপ্রামথা বৈঠক, জোটের সমীকরণে নজর

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ঃ ত্রিপুরার উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকার আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনার কেন্দ্রে বিজেপি ও তিপ্রামথার জোটের সম্ভাবনা। নির্বাচনী সমীকরণ চূড়ান্ত করার পাশাপাশি ২০২৪ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয় নিয়েও আগামী ৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে প্রস্তাবিত এই বৈঠকে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি-তিপ্রামথার পারস্পরিক সমঝোতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে তিপ্রামথার পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।২০২৪ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়নকে নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন তিপ্রামথার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা। তাঁর দলের দাবির মধ্যে রয়েছে আদিবাসীদের জমির অধিকার সুরক্ষা, এডিসির প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়গুলি।দিল্লির বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা, বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব জীতেন্দ্র কুমার সিনহা। অন্যদিকে তিপ্রামথার প্রতিনিধিদলে থাকার কথা দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা, বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা এবং প্রতিমন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মার।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিকে ঘিরে আগের জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজেপি ও তিপ্রামথার মধ্যে কোনও নির্বাচনী জোট গড়ে ওঠেনি। সেই নির্বাচনে মোট ২৮টি আসনের মধ্যে ২৪টি আসন দখল করে তিপ্রামথা। ফলে রাজ্য সরকারে বিজেপি ক্ষমতাসীন দল হলেও ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদে তিপ্রামথার দখল রয়েছে এবং বিজেপি সেখানে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে।এবারের ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন কোনও পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। দিল্লির বৈঠকের পর বিজেপি ও তিপ্রামথার মধ্যে আসন সমঝোতা কিংবা নির্বাচনী জোটের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version