Site icon northeast8.com

বেতন বৈষম্য, পেনশন বঞ্চনা ও নিয়মিতকরণের দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি গণ-ডেপুটেশন

আগরতলা : রাজ্যের SSA শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দীর্ঘদিনের আর্থিক ও পেশাগত অনিশ্চয়তা বর্তমানে চরম সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সুবিধা সংক্রান্ত একাধিক সমস্যায় শিক্ষক সমাজ গভীরভাবে বিপর্যস্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০১৭ সালের পর থেকে প্রায় চার বছর ধরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন-ভাতা কার্যত স্থবির ছিল। নিয়মিত সরকারি কর্মচারিদের মতো বেতন কমিশনের সুবিধা, ডিএ বৃদ্ধি বা বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি। ২০২১ সালে হাইকোর্টের রায়ের পর রাজ্য সরকার নিয়মিতকরণের একটি স্কিম চালু করলেও অভিযোগ, এখনও শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কম বেতন পাচ্ছেন। গত প্রায় আট বছরে একজন শিক্ষক গড়ে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি শিক্ষক সংগঠনের।

বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকার আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অনেকেরই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেতন শেষ হয়ে যাচ্ছে। উপরন্তু, বেতন নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময়ে প্রদান করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেও বহু শিক্ষক আর্থিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার শিক্ষক অবসর গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তারা কোনো পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন না। জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেকেই ছোটখাটো ব্যবসা বা শ্রমের কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ কেউ টমটম চালিয়েও সংসার চালাচ্ছেন।

এছাড়া প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দাবি। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, মানসিক চাপ ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল বলে মত শিক্ষক সমাজের। মৃত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরিবার বর্তমানে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারের ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নেই, সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে।শিক্ষকদের মূল দাবি গুলি হল 

. সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা SLP প্রত্যাহার করে হাইকোর্টের রায় দ্রুত কার্যকর করে পূর্ণ নিয়মিতকরণ।

. অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পেনশনের আওতায় আনা।

. কর্মরত অবস্থায় মৃত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরিবারকে নিয়মিত কর্মচারিদের মতো আর্থিক সহায়তা ও Die-in-Harness সুবিধা প্রদান।

. প্রতি মাসের ১ তারিখে নিয়মিত বেতন প্রদান নিশ্চিত করা।

. রাজ্যের শিক্ষক সংকট দূরীকরণে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

উল্লেখ্য, বেতন সময়মতো প্রদানের দাবিতে আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি রাজ্যের সকল বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরে একযোগে গণ-ডেপুটেশন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষক সমাজ আশা প্রকাশ করেছে, রাজ্য সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে তারা বাধ্য হবেন বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

Exit mobile version