আগরতলা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ত্রিপুরার জৈব কৃষি ও উৎপাদিত জৈব পণ্যকে দেশ-বিদেশের বাজারে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠিত হল জৈব উৎপাদন বিষয়ক জাতীয় কর্মসূচি বা NPOP (National Programme for Organic Production)-এর উপর বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি।কৃষকদের জৈব পণ্যের গুণমান বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে NPOP-এর কাঠামো ও জৈব সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উৎপাদন, সার্টিফিকেশন এবং বাজারজাতকরণের মাধ্যমে কীভাবে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের আরও ভালো বাজার তৈরি করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার জৈব কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। রাজ্যের কালীখাসা ও সুগন্ধি চাল, আদা, সুগন্ধি লেবু, বার্ডস আই মরিচ এবং জিআই-ট্যাগযুক্ত কুইন আনারস ইতিমধ্যেই বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। এর পাশাপাশি এবার প্রতিথি অর্গানিক ফুডসের মাধ্যমে ব্ল্যাক রাইস ও স্টিকি রাইস ইউরোপের বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।জানা গেছে, বর্তমানে ত্রিপুরায় প্রায় ২৬,৬৬০ হেক্টর জমি জৈব চাষের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে রাজ্যে ইতিমধ্যে ৫০টি Farmer Producer Company (FPC) গড়ে উঠেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জৈব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে মানসম্মত উৎপাদন ও নির্ভরযোগ্য সার্টিফিকেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রক্রিয়ায় জৈব পণ্য উৎপাদন ও সার্টিফিকেশন করা গেলে ত্রিপুরার কৃষিপণ্যের জন্য ইউরোপ-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।এদিনের কর্মসূচিতে কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি TSOFDA, NABARD-এর প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন Farmer Producer Company-র সদস্য, কৃষক এবং কৃষি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। জৈব কৃষির প্রসার, কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ত্রিপুরার জৈব পণ্যকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত ব্যক্ত করেন উপস্থিতরা।
