আগরতলা : সংবিধান অনুযায়ী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের রাজভাষা হিন্দি এবং লিপি দেবনাগরী। রাজভাষা সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিধানগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দাপ্তরিক কাজে হিন্দির প্রগতিশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২৬ জুন ১৯৭৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে রাজভাষা বিভাগকে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে গঠন করা হয়।এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজভাষা বিভাগ প্রতি অর্থবছরে চারটি আঞ্চলিক রাজভাষা সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। অর্থবছর ২০২৫–২৬-এর প্রথম যৌথ আঞ্চলিক সম্মেলন ইন্দোরের দেবী অহিল্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দ্বিতীয় যৌথ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রিপুরার আগরতলায়, সোনার তারি স্টেট গেস্ট হাউসে।
এই সম্মেলনে পূর্বাঞ্চল (পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড), উত্তর-পূর্বাঞ্চল (অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম) এবং উত্তরাঞ্চল (উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ) অঞ্চলের কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও উপক্রমগুলির জ্যেষ্ঠ আধিকারিকরা অংশ নিচ্ছেন। চলতি বছরে দুটি অঞ্চলের যৌথ সম্মেলন আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সেরা কার্যপ্রণালীর প্রসার ঘটানো।সম্মেলনের উদ্বোধন হবে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অপরাহ্ন ২টায় মাননীয় গৃহ ও সমবায় মন্ত্রীর হাতে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দপ্তর, ব্যাংক ও উপক্রমকে রাজভাষা বাস্তবায়নে উৎকৃষ্ট কর্মদক্ষতার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচিত নগর রাজভাষা কার্যনির্বাহ কমিটিগুলিকে ‘নরাকাস রাজভাষা সম্মান’ দেওয়া হবে।তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাপ্ত ত্রৈমাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুরস্কারপ্রাপকদের নির্বাচন করা হয়েছে। এবারের সম্মেলনে মোট ৮০টি পুরস্কার প্রদান করা হবে। বিজয়ীদের সনদপত্র ও শিল্ড তুলে দিয়ে সম্মানিত করা হবে।উদ্বোধনী অধিবেশনে রাজভাষা বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘রাজভাষা ভারতী’-র উত্তর-পূর্ব বিশেষ সংখ্যা উন্মোচন করা হবে। পাশাপাশি ‘ভারতীয় ভাষা ও রাজভাষা হিন্দি – কালজয়ী কৃতিসমূহ’ এবং ‘অমৃতবাণী সংস্কৃতের কালজয়ী প্রেরণাদায়ক শ্লোক’ গ্রন্থদ্বয়েরও মোড়ক উন্মোচন করা হবে। রাজভাষা বিভাগ জানিয়েছে, দেশের সমৃদ্ধ ভাষাগত ঐতিহ্য বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বই প্রকাশনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভাগ একাধিক মানসম্পন্ন গ্রন্থ ও গবেষণাভিত্তিক সংকলন প্রকাশ করেছে, যার উদ্দেশ্য হিন্দি ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষার পারস্পরিক সম্পর্ককে তুলে ধরা এবং সমসাময়িক জ্ঞানভিত্তিক উৎস গড়ে তোলা।মাননীয় গৃহমন্ত্রীর দূরদর্শী উদ্যোগে গঠিত ‘ভারতীয় ভাষা বিভাগ’ রাজ্যগুলির সঙ্গে তাদের সরকারি ভাষায় সরাসরি ও কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে কাজ করছে। এই উদ্যোগ প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভাষাগত সমন্বয় ও জাতীয় ঐক্যকেও সুদৃঢ় করছে।
