Site icon northeast8.com

পশ্চাৎপদ ও দুর্বল অংশের দ্রুত আর্থসামাজিক উন্নয়নেই রাজ্যের অগ্রগতি: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা : রাজ্যের অন্যান্য পশ্চাৎপদ জাতিগোষ্ঠী সহ সমাজের দুর্বল অংশের মানুষ বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছে বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। তিনি বলেন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য মানুষের জন্য কাজ করা এবং মানুষের সেবা করা।বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক ড. বি. আর. আম্বেদকর স্বর্ণপদক পুরস্কার, বিদ্যাসাগর সামাজিক-সাংস্কৃতিক পুরস্কার প্রদান এবং আর্থিকভাবে অনগ্রসর পশ্চাৎপদ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত অতিথিরা বিদ্যাসাগর ও ড. বি. আর. আম্বেদকরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার সমাজের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। পশ্চাৎপদ শ্রেণি ও দুর্বল অংশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন যত দ্রুত সম্ভব ঘটানো গেলে রাজ্যও তত দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা বর্তমানে দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের পশ্চাৎপদ শ্রেণি ও দুর্বল অংশের মানুষের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় বাজেটেও সেই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক মান উন্নয়নের মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’ গঠন করা। এই লক্ষ্য অর্জনে সকলের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে পশ্চাৎপদ শ্রেণির মানুষের সংখ্যা প্রায় ৯ লক্ষ ৪ হাজার এবং পরিবার রয়েছে ২ লক্ষ ২৪ হাজারের বেশি। রাজ্য সরকার পশ্চাৎপদ শ্রেণিভুক্ত মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং গত ২০ বছরের মধ্যে অপরাধ প্রবণতার হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। অতীতে জনজাতি যুবকদের ভুল পথে পরিচালিত করে সন্ত্রাসবাদের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রেখে সব জাতি ও জনজাতিকে সঙ্গে নিয়ে এক নতুন ত্রিপুরা গঠনে অগ্রসর হতে চায়।অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা। তিনি বলেন, রাজ্যের পশ্চাৎপদ শ্রেণির মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য বৃত্তি প্রদান, ছাত্রাবাস নির্মাণসহ নানা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি সমবায় উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান এম. কে. নাথ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দপ্তরের সচিব তাপস রায় এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধিকর্তা নির্মল অধিকারী।অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া পশ্চাৎপদ শ্রেণিভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের হাতে ড. বি. আর. আম্বেদকর স্বর্ণপদক তুলে দেওয়া হয়। সমাজে বিশেষ অবদানের জন্য সজল আচার্য, সুকুমার চন্দ্র নাথ ভৌমিক ও কাজল চন্দ্র নাথ-কে বিদ্যাসাগর সামাজিক-সাংস্কৃতিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পাঁচজন মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্রের মাধ্যমে দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরা হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের বার্ষিক রিপোর্ট কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। শেষে পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মাননা জানানো হয়।

Exit mobile version