Site icon northeast8.com

ত্রিপুরার প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষের পথে, ২০২৭ সালে ম্যাচ আয়োজনের আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা

আগরতলা, ১৬ আগস্ট ২০২৬ : রবিবার নরসিংগড়ে নির্মীয়মাণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা জানান, স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হতে আরও প্রায় দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। পরিদর্শনের পর নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কারণে স্টেডিয়াম নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে বিষয়টি তিনি নিজে ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।এর আগে জুলাই মাসে ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল, আগস্টের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে।ড. মানিক সাহা বলেন, “আমি ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলাম এবং খেলাধুলা সবসময়ই আমার জীবনের অংশ। দীর্ঘদিন ধরেই এই স্টেডিয়াম কবে সম্পূর্ণ হবে, সেই প্রত্যাশা ছিল।” নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আলোচনার পর আগের দেড় মাসের সময়সীমা বাড়িয়ে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্টেডিয়ামটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রিপুরার ক্রিকেটপ্রেমী, খেলোয়াড় ও কোচদের কাছেও এই স্টেডিয়ামের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।স্টেডিয়ামের গ্যালারির আসন ব্যবস্থা পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আসন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের। স্টেডিয়ামটির আকার ও পরিকাঠামোর সঙ্গে গুজরাট ও গুয়াহাটির স্টেডিয়ামের তুলনাও করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর এই স্টেডিয়ামে একটি ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নরসিংগড়ের এই স্টেডিয়াম হবে ত্রিপুরার প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় স্টেডিয়ামটি ত্রিপুরার পাশাপাশি প্রতিবেশী বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদেরও আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে মোট ১৮৫.১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ১৭৮ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। মূল সময়সীমার তুলনায় নির্মাণে বিলম্ব হলেও বর্তমানে কাজের গতি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রায় ২২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামটি বর্তমানে ইনডোর ও ফিনিশিং কাজের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে আইবিএম সিস্টেম, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রধান প্যাভিলিয়ন, মিডিয়া প্যাভিলিয়ন এবং টিভি প্রোডাকশন বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি ছাদ, এসিপি, ফলস সিলিং ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কাজও এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে।দিন-রাতের ম্যাচ আয়োজনের জন্য ফ্লাডলাইট ব্যবস্থার কাজও প্রায় শেষের পথে। ছয়টি হাই-মাস্টের ভিত্তি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ফ্লাডলাইট স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে পৌঁছে গেছে এবং মাস্টগুলো স্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।নির্মাণকাজ শেষের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় নরসিংগড় স্টেডিয়াম ত্রিপুরা ও সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্রিকেট পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামটি সম্পূর্ণ হলে বড় ধরনের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইপিএল ম্যাচ আয়োজনের পথও খুলে যেতে পারে।

Exit mobile version