আগরতলা : ছাত্রছাত্রীদের আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা প্রদান করা হলে তাদের সঠিক মানসিক বিকাশ ঘটে—এ কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। আজ আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কুল লিডারশিপ (এনসিএসএল), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনআইইপিএ), দিল্লি এবং রাজ্যের এসসিইআরটি পরিচালিত স্কুল লিডারশিপ একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত তিনদিনের আঞ্চলিক স্কুল লিডারশিপ কর্মশালা ও পর্যালোচনা কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকারা হলেন সমাজের মেরুদণ্ড এবং ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। আজকের ছাত্রছাত্রীরাই আগামী দিনে দেশের পরিচালক। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মূল্যবোধ, সুস্থ ও সুন্দর মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পর্যালোচনা প্রয়োজন। শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়, সমাজ থেকেও নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা বাস্তবায়ন করেই দেখান। বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষিত যুবসমাজের জন্য ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ সহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন শিক্ষানীতির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যতে উপকৃত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষিত যুবসমাজকে দেশ ও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানবসম্পদ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যাদের সঠিক দিশায় পরিচালিত করতে হবে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখাও অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে। রাজ্য সরকার ছাত্রছাত্রীদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যার সঠিক রূপায়ণের জন্য নজরদারি অপরিহার্য।
তিনি বলেন, একসময় ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বিশ্ববিখ্যাত ছিল। কিন্তু পরাধীনতা ও বৈদেশিক আগ্রাসনের ফলে সেই গৌরব নষ্ট হয়। প্রধানমন্ত্রী সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন এবং রাজ্য সরকারও সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই প্রয়াসে অংশীদার হতে চায়।অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে। তিনি বলেন, রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে উন্নত শিক্ষাদানের লক্ষ্যে ‘নিপুণ ত্রিপুরা সুপার-৩০’ সহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পুরস্কার ব্যবস্থার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। শিক্ষা প্রদানে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর শশীকলা ওয়ানঞ্জারি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসসিইআরটি-এর অধিকর্তা এল. ডার্লং।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ও বুনিয়াদি শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা রাজীব দত্ত, ককবরক ও অন্যান্য পশ্চাৎপদ ভাষা দপ্তরের অধিকর্তা আনন্দহরি জমাতিয়া এবং এনসিএসএল-এর অধ্যাপক ড. সান্তনা জি. মিশ্র।





