আগরতলা, ২৬ জুলাই ২০২৬ : ত্রিপুরার পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেস ত্রিপুরা হাইকোর্টের কাছে এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) হস্তক্ষেপ করে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানায়। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে দলটি। আগরতলায় প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ও বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, ডিজিপির মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে বিচারবিভাগীয় তদন্তই একমাত্র গ্রহণযোগ্য উপায়।তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিম ত্রিপুরার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে গঠিত এসআইটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। কারণ, রাজ্যের সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুর তদন্ত একই পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। সুদীপ রায় বর্মনের দাবি, ঘটনাটিকে ঘিরে এখনও বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও ঘটনা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সন্দেহ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একজন ডিজিপি কেন নিজের সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে অফিস কক্ষে আত্মহত্যা করবেন? পাশাপাশি, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার না হওয়াও তদন্তকে আরও গভীর ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার উদ্দেশে সুদীপ রায় বর্মন বলেন, সরকার যদি সত্যিই কিছু গোপন না করে থাকে, তাহলে বিচারবিভাগীয় তদন্তে আপত্তি থাকার কথা নয়। বরং তদন্তে বিলম্ব হলে সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে আরও সন্দেহ তৈরি হতে পারে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, মৃতদেহ উদ্ধারের সময় ফরেনসিক প্রোটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘটনাস্থলে প্রথম কে পৌঁছেছিলেন, ছবি ও ভিডিও যথাযথভাবে ধারণ করা হয়েছিল কি না এবং সমস্ত আলামত বৈজ্ঞানিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।এছাড়া, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে প্রয়াত ডিজিপি অপমান ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানতে চান, প্রভাবশালী মাদক চক্র বা অন্য কোনও স্বার্থগোষ্ঠীর সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না। তাঁর মতে, স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এই দিকগুলিও খতিয়ে দেখা উচিত। ত্রিপুরা হাইকোর্টের উদ্দেশেও আহ্বান জানিয়ে সুদীপ রায় বর্মন বলেন, অতীতে জনস্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল। বর্তমান ঘটনাতেও আদালত একই ধরনের পদক্ষেপ নিলে জনসাধারণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। উল্লেখ্য, এর আগে প্রধান বিরোধী দল সিপিআই(এম)-ও ডিজিপি অনুরাগের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। এবার কংগ্রেসও একই দাবিতে সরব হয়ে তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে।
