Site icon northeast8.com

গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার বার্তা, আগরতলায় বিজেপির মিছিল

আগরতলা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা দূর করো’ স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার আগরতলায় শক্তি প্রদর্শন করল প্রদেশ বিজেপি। রবীন্দ্র ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী (ডা.) মানিক সাহা। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়, সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, মন্ত্রী টিঙ্কু রায়, সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্যসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা।মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর বক্তব্য, হিংসা, দাঙ্গা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে পরিচালিত করা সম্ভব নয়। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এদিন বিরোধী দলগুলিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর সিপিআইএম, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাঁর মতে, এ ধরনের অবস্থান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, স্থানান্তরিত ভোটারদের তথ্য সংশোধন এবং প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস, সিপিআইএম ও তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক স্বার্থে এসআইআরের বিরোধিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।অন্যদিকে, বিজেপির এই মিছিলকে কেন্দ্র করে আগরতলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে কংগ্রেস ভবনের সামনেও মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। মিছিল ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে সতর্ক নজর রাখে পুলিশ প্রশাসন।

Exit mobile version