খোয়াই, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : খোয়াই জেলার বাইজলবাড়ি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার ২৫ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। এদিন তিনি বলেন, রাজ্য সরকার উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক বিভাজনকে প্রাধান্য দিচ্ছে না; উন্নয়নের সুফল রাজ্যের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন, জনজাতি সম্প্রদায়ের সার্বিক বিকাশ এবং মহিলাদের শিক্ষা ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। তিনি জানান, শুধুমাত্র চলতি অর্থবছরেই ইতিমধ্যে ৩২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা ত্রিপুরায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং রাজ্য সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে।শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সিন্থেটিক ফুটবল টার্ফ ও ওপেন জিম নির্মাণের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।মহিলাদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কোনও ছাত্রী যাতে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে না দেয়, সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ২২ হাজার সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও ৪১ হাজার সাইকেল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলেজ স্তরে ছাত্রীদের ফি মকুব করা হয়েছে এবং রাজ্যের উইমেন্স কলেজকে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার ঘোষণাও করা হয়েছে।জনজাতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রসারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আবাসিক বিদ্যালয় ও হোস্টেলের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, স্টাইপেন্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বর্তমানে রাজ্যে ২১টি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় চালু রয়েছে। এছাড়া জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় বোর্ডিং হাউস নির্মাণ এবং উচ্চশিক্ষার জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় সমাজের সব স্তরের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খোয়াই জেলার জেলাশাসক রজত পন্থ। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, খোয়াই জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায়, এমডিসি জেমস দেববর্মা, শিক্ষা দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে, খোয়াই জেলার পুলিশ সুপার বি. জগদীশ্বর রেড্ডি-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানের সূচনায় অতিথিরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
