আগরতলা,২৮ এপ্রিল ২০২৬ : ভারতরত্ন ড. বি.আর. আম্বেদকর-এর ১৩৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে “আম্বেদকর ও জাতীয় সংহতি” শীর্ষক এক আলোচনা চক্র অনুষ্ঠিত হলো আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১ নম্বর হলে। তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তর এবং পশ্চিম জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তপশিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ড. আম্বেদকর ছিলেন একজন দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও সমাজ সংস্কারক, যিনি দেশের অস্পৃশ্যতা, অশিক্ষা ও সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি নতুন প্রজন্মকে আম্বেদকরের আদর্শ ও চিন্তাধারা অনুসরণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা আম্বেদকরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, শিক্ষা হলো এমন এক শক্তি যা অন্ধকার দূর করে মানুষকে আলোর পথে নিয়ে যায়। রাজ্যের তপশিলি জাতিভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রি-ম্যাট্রিক ও পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজীব ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সাংসদ, বলেন যে ড. আম্বেদকর অস্পৃশ্যতা দূর করে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার পথ দেখিয়েছেন এবং সংবিধানে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আম্বেদকরের আদর্শ অনুসরণ করে দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন এবং আম্বেদকরের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত পাঁচটি স্থানকে ‘পঞ্চতীর্থ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সভাপতির ভাষণে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল ছাত্রছাত্রীদের লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক জয়ন্ত চক্রবর্তী এবং স্বাগত ভাষণ দেন তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব ড. দীপা ডি. নায়ার। তিনি বলেন, আম্বেদকরের জীবনের মূল মন্ত্র ছিল— “শিক্ষিত হও, সংগঠিত হও এবং সংগ্রাম করো।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, পশ্চিম জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অরূপ দেব এবং দপ্তরের অধিকর্তা জয়ন্ত দে।এদিন ড. আম্বেদকর স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হন ধলাই জেলার প্রাক্তন শিক্ষাবিদ ক্ষিতিশ দাস। অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে না পারায় পরে তাঁকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। এছাড়া বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় স্তরের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ ও মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষে ড. আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে একটি স্মারক গ্রন্থের আবরণ উন্মোচন করা হয় এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
